ঢাকাসহ সারাদেশে সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন শতাধিক রোগী শয্যার অপেক্ষায় থাকলেও ১২টি জেলার আইসিইউ অচল পড়ে আছে।
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আইসিইউ সংকট এখন মুমূর্ষু রোগীদের জন্য প্রাণঘাতী বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত আবুল হাশেমের মৃত্যুর ঘটনা এ সংকটের করুণ চিত্র তুলে ধরেছে। চিকিৎসকরা আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও সরকারি হাসপাতালে শয্যা না পাওয়ায় অবশেষে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়, কিন্তু তাতেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ৩৭২টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে।
এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ ঢাকাভিত্তিক ২২টি হাসপাতালে।
তবুও প্রতিদিন ঢাকা মেডিকেল, বিএসএমএমইউ এবং সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে একটি শয্যার জন্য ৬০-৭০ জন রোগী অপেক্ষায় থাকেন।
এদিকে করোনা মহামারির সময় স্থাপিত ১২টি জেলার আইসিইউ ইউনিট জনবল সংকটে অচল হয়ে পড়েছে।
এতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার সঠিক পরিকল্পনা ও জনবল নিয়োগ না দিলে সংকট আরও তীব্র হবে।
কারণ ডেঙ্গু, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
মুগদা, ঢামেক ও সোহরাওয়ার্দীতে প্রতিদিন শয্যার অভাবে অসংখ্য রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর স্বীকার করেছেন, জনবল সংকটই প্রধান কারণ।
করোনাকালে আউটসোর্সিং ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ ছিল, কিন্তু অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে নতুন চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন।
আইসিইউর ঘাটতি কেবল অবকাঠামোর অভাবে নয়, বরং পরিকল্পনার অভাব ও জনবল সংকটের ফল।
বেসরকারি হাসপাতালের ব্যয়বহুল চিকিৎসার কারণে দরিদ্র রোগীরা সরকারি হাসপাতালের দিকে ছুটছেন।
এই অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে আইসিইউ সংকট জাতীয় স্বাস্থ্যসেবাকে ভেঙে ফেলতে পারে।
