রাঙ্গামাটি‑বর্মাছড়িতে সেনা ক্যাম্প নির্মাণ নিয়ে আদিবাসী বিক্ষোভ; ৭৫ সদস্যের দল আজ এলাকা ত্যাগ করেছে, টহল বাড়ানো হবে।
রাঙ্গামাটির বর্মাছড়ি (বর্মাছড়ি) এলাকায় পাহাড়ি আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে, সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছিল একটি অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প। তবে স্থানীয় প্রতিরোধ ও বৈরী পরিস্থিতির কারণে আজ (তারিখ উল্লেখ না থাকলেও) সেনাবাহিনীর ৭৫ সদস্যের সর্বশেষ দল ঐ এলাকা থেকে সরে গেছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে— ক্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার পর টহল জোরদার করা হবে এবং নিয়মিত সেনা উপস্থিতি বাড়ানো হবে।
পরিকল্পনা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
তবে স্থানীয় আদিবাসী গোষ্ঠী ব্রহ্মা, মার্মা ও রাঙা সম্প্রদায়ের লোকেরা ক্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনায় আপত্তি তুলেছিল। কারণ, তারা বলেন— দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে এলাকায় বসবাস করছেন এবং নতুন ক্যাম্প সৃষ্টিতে তাঁদের রুজি-রোজগার, সামাজিক পরিবহন ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেই সঙ্গে পুনরায় সাম্প্রদায়িক রূপ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার ভয় রয়েছে।
একাধিক সংবাদ উৎস বলছে, বার্মাছড়ি অঞ্চলে তৎকালীন সেনা উপস্থিতি ও ক্যাম্প নির্মাণের সম্ভাবনায় স্থানীয়রা “ভূমি দখল” এবং “বৈরী প্রতিসামরিক কার্যকলাপ” বলেও অভিযোগ তুলেছেন। Global Arakan Network+1
সেনাবাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি ও সিদ্ধান্ত
স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে— ২৪ অক্টোবর একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সেনাবাহিনী “স্থানীয় মনোভাব বিবেচনায় নেওয়া হবে” বলে ঘোষণা করে। এরপর সিদ্ধান্ত হয়, বর্মাছড়িতে নতুন ক্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত প্রত্যাহার করার। The Business Standard
এই প্রসঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও সেনাবাহিনীর একাংশ বলেছে—
“আমরা এলাকার মানুষের সঙ্গে গিয়ে কথা বলব, নতুন ক্যাম্পের বদলে বিকল্প ব্যবস্থা বিবেচনায় নিচ্ছি।”
নিরাপত্তা ও টহলের বিশ্লেষণ
যদিও ক্যাম্প নির্মাণ স্থগিত রাখা হয়েছে, তবে টহল জোরদার করা হবে এবং পিরিয়ডিক সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে— পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তাজনিত টানাপোড়েন এবং ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ আরও প্রকট হতে পারে।
রিটেলেড খাগড়াছড়ি/রাঙ্গামাটির নিরাপত্তা বিবৃতি বলছে, গত সেপ্টেম্বরেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও সশস্ত্র কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে। BSS+1
উপসংহার
বর্মাছড়িতে সেনা ক্যাম্প নির্মাণ নিয়ে আপত্তি ও তার পরবর্তী সেনাবাহিনীর ব্যাকঅফ— এটি পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমি, সামরিক উপস্থিতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পর্কের এক জটিল প্রতিচ্ছবি।
সেনাবাহিনীর সিদ্ধান্ত যে ক্যাম্প নির্মাণ আপাতত এড়ানো হয়েছে, তা কোনো একভাবে শান্তি‑উপচারে সাড়া হলেও, ভবিষ্যতে বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবায়ন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় ও আইনগত ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই ধরনের প্রক্রিয়া তাদের অংশগ্রহণ এবং স্বীকৃতির ভিত্তিতে হওয়া আবশ্যক।
📚 রেফারেন্স লিঙ্কস
- Army backs away from plan to set up temporary camp in Khagrachhari’s Barmachari — The Business Standard. The Business Standard
- Local Indigenous Protest Against Bangladesh Army’s Illegal Seizure of Buddhist Monastery Land — Global Arakan Network. Global Arakan Network
- Army issues statement on recent communal violence in Khagrachhari — BSS. BSS
