ভারতের তিন বাহিনীর NOTAM জারির পর পাকিস্তান বলছে— ভারত নৌ মহড়ার নামে যুদ্ধ উস্কে দিচ্ছে, চলছে ফলস ফ্ল্যাগ অভিযানের প্রস্তুতি।
ভারতের তিন বাহিনী—স্থল, নৌ ও বিমান—একযোগে NOTAM (Notice to Airmen) জারি করেছে, যার পরই দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। পাকিস্তান মনে করছে, এই মহড়া কেবল রুটিন প্রতিরক্ষা কার্যক্রম নয়, বরং একটি “যুদ্ধ পূর্বাভাস” বা ফলস ফ্ল্যাগ অভিযানের প্রস্তুতি।
দুদিন আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন— “ভারত নৌ মহড়ার নামে যুদ্ধ বাধাতে চাইছে।”
আজ শনিবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা শাখা ISI প্রধান ও সেনা মুখপাত্রও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
পাকিস্তানের অভিযোগ: “ভারত পরিকল্পিত উস্কানি দিচ্ছে”
সেনা মুখপাত্র বলেন, “ভারত স্থল, সমুদ্র ও আকাশে যা খুশি করতে পারে।
কিন্তু এবার যদি কোনো আগ্রাসন হয়, পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া আগের চেয়ে কঠোর হবে।”
তিনি দাবি করেন, ভারত “গভীর সমুদ্রে একটি নতুন ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন” চালানোর পরিকল্পনা করছে—যার উদ্দেশ্য পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মহলে “সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক” হিসেবে তুলে ধরা।
ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন কী?
‘ফলস ফ্ল্যাগ’ বলতে বোঝায় এমন সামরিক বা রাজনৈতিক অভিযান—যেখানে একটি রাষ্ট্র নিজেই হামলা সংগঠিত করে অন্য দেশের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে।
পাকিস্তানের দাবি, ভারত অতীতে পুলওয়ামা হামলার সময়ও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই অভিযোগের পেছনে ভয় ও অবিশ্বাসের রাজনীতি কাজ করছে, যা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে আবারও সংঘর্ষের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
ভারতের অবস্থান: “এটি রুটিন মহড়া”
এদিকে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, NOTAM জারি করা হয়েছে নিয়মিত প্রতিরক্ষা মহড়ার অংশ হিসেবে।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “ভারতীয় বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; কোনো উস্কানিমূলক পদক্ষেপের প্রশ্নই আসে না।”
তবে দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ভারতের এই মহড়া মূলত চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও আরব সাগরে পাকিস্তান-চীন নৌচুক্তি মোকাবিলায় কৌশলগত বার্তা।
আঞ্চলিক কূটনীতি ও সামরিক ভারসাম্য
দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা নতুন নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর কার্যক্রম মালাক্কা প্রণালি থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, যা পাকিস্তানের জন্য কৌশলগত উদ্বেগের কারণ।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাকিস্তান এখন চীনের ওপর নির্ভরশীল; ফলে ভারতের যেকোনো কৌশলিক পদক্ষেপই বেইজিংয়ের জন্যও পরোক্ষ বার্তা।
বিশ্লেষণ: “উত্তেজনা নয়, দরকার কূটনৈতিক সংযম”
প্রাক্তন কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, “ভারত ও পাকিস্তান উভয়েরই এখন দরকার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা। সামরিক প্রদর্শনের পরিবর্তে সংলাপই সমাধান।”
তারা সতর্ক করেছেন—
এই মুহূর্তে যদি কোনো ভুল ব্যাখ্যা বা সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হয়, তাহলে সেটি সহজেই পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়াতে পারে।
শেষকথা;
ভারতের NOTAM ও পাকিস্তানের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠছে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা রাজনীতির বাস্তবতা—
অবিশ্বাস, ভয়, ও রাজনৈতিক প্রচারণা এখনো দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রণ করছে।
আন্তর্জাতিক মহল চাইছে, যুদ্ধ নয়—সংলাপই হোক পরবর্তী পদক্ষে
