চট্টগ্রাম বন্দরের বিদেশি ইজারা নিয়ে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। স্কপসহ বিভিন্ন সংগঠন জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিংসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইউনূস সরকারের এই উদ্যোগকে “গোপন বিদেশি চুক্তি” উল্লেখ করে শ্রমিক সংগঠন, বাম দল এবং বিভিন্ন পেশাজীবী একযোগে মাঠে নেমেছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তুলে তারা এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন।
স্কপের কঠোর কর্মসূচি: ২৬ নভেম্বর বন্দর অভিমুখী সড়ক অবরোধ
বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ঘোষণা দিয়েছে—
➡ ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর অভিমুখী সড়ক অবরোধ
তাদের অভিযোগ, নিউমুরিং টার্মিনালসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার চুক্তি “গোপনে” সম্পন্ন করা হচ্ছে। বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন স্কপের এই কর্মসূচির প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে।
বাম জোটের অভিযোগ: সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হামলা
জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশে নেতারা বলেন—
- বোর্ড সদস্য ছাড়াই অনুমোদন নিয়ে চুক্তির চেষ্টা করা হচ্ছে
- সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গোপনে আলোচনার নামে নেগোশিয়েশন
- জাতীয় নিরাপত্তা উপেক্ষা করে বিদেশিদের কাছে কৌশলগত এলাকা হস্তান্তর
বক্তারা স্পষ্ট করে বলেন,
“বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। দেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া আত্মঘাতী।”
তারা দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে সরকারের ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রামে টানা প্রতিবাদ: আন্দোলন আরও বিস্তার লাভ করছে
একই দিনে চট্টগ্রামের পুরাতন স্টেশন এলাকায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়—
➡ ২৬ নভেম্বর স্কপের অবরোধ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ
➡ ৪ ডিসেম্বর যমুনা ঘেরাও কর্মসূচি সফল করার অঙ্গীকার
নেতারা সতর্ক করে বলেন,
“দেশের মোট আমদানি–রপ্তানির ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই এ ধরনের কৌশলগত স্থাপনার ইজারা জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক প্রস্তুতি এবং অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”
শ্রমিক সংগঠনের একাত্মতা: ৪৭টি সংগঠনের ঘোষণা
চট্টগ্রামের বিআরটিসি মার্কেট কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ৪৭টি শ্রমিক সংগঠন স্কপ ঘোষিত কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানায়। তারা বলেন—
- বন্দর
- নৌবাহিনী ঘাঁটি
- তেল শোধনাগার
- বিমানবন্দর
এইসব স্থাপনার পাশে বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা জাতীয় স্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি।
সভায় আরও বলা হয়—
“ইজারা নিয়ে সরকারের গোপন তৎপরতা জনগণের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। দেশের স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলন এখন আরও তীব্র হবে।”
শেষ কথা
চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা নিয়ে তৈরী হওয়া সংকট এখন কেবল একটি নীতিগত তর্ক নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে রূপ নিয়েছে। ইউনূস সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে রাজপথ উত্তপ্ত, আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৌশলগত স্থাপনার বিদেশি নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়—এটি অর্থনীতি, সামরিক নিরাপত্তা এবং সার্বিক জাতীয় স্বার্থের জন্য বিপজ্জনক।
