প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের ১০ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন করে গেজেট প্রকাশ। কে পেলেন কোন মন্ত্রণালয়—বিস্তারিত তালিকা।
১০ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন, গেজেট প্রকাশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগপ্রাপ্ত ১০ উপদেষ্টার দপ্তর বণ্টন করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে এ সংক্রান্ত আদেশ প্রকাশ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, Rules of Business, 1996–এর rule 3B(ii) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এ দায়িত্ব বণ্টন করেন এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টারা
গেজেট অনুযায়ী, মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে তিনজনকে ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—
- মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ
- নজরুল ইসলাম খান
- রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ
এছাড়া,
- মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ–কে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর–কে অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি খাত একসঙ্গে একজন উপদেষ্টার অধীনে যাওয়ায় অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে সমন্বিত পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের দায়িত্ব
প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন হয়েছে নিম্নরূপ—
- হুমায়ুন কবির পেয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
- শামসুল ইসলাম (ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব.) দায়িত্ব পেয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের।
- জাহেদ উর রহমান–কে দেওয়া হয়েছে পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি সংক্রান্ত দায়িত্ব।
- মাহদী আমিন পেয়েছেন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান; এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
- রেহান আসিফ আসাদ–কে দেওয়া হয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
প্রশাসনিক তাৎপর্য
নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে উপদেষ্টাদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন প্রশাসনিক গতি বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, শিক্ষা, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে একাধিক দায়িত্ব বণ্টন সরকারের নীতিগত অগ্রাধিকারকে স্পষ্ট করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগের মাধ্যমে সরকার রাজনৈতিক সমন্বয় জোরদার করতে চায়। একই সঙ্গে প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে পৃথকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিতও স্পষ্ট।
কার্যকারিতা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা দ্রুত নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করে কাজ শুরু করবেন।
নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো ও নীতিগত অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে এই দপ্তর বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন নজর থাকবে, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা কীভাবে নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।
