অতিরিক্ত আইজিপি ও এপিবিএন প্রধান আলী হোসেন ফকিরকে নতুন আইজিপি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আলী হোসেন ফকির নতুন আইজিপি নিয়োগ পেলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকার পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির-কে নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি বর্তমান দায়িত্ব থেকে পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হলেন। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবিলম্বে এ নিয়োগ কার্যকর হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা আলী হোসেন ফকিরকে জনস্বার্থে পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
পেশাগত জীবন ও অভিজ্ঞতা
আলী হোসেন ফকির বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের সদস্য। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠপর্যায়ের পুলিশিং থেকে শুরু করে প্রশাসনিক নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
আইজিপি হওয়ার আগে তিনি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এপিবিএন দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কূটনৈতিক এলাকা ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস দমন ও আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থায় তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।
নিজ জেলা বাগেরহাট
আলী হোসেন ফকিরের নিজ জেলা বাগেরহাট। দক্ষিণাঞ্চলের এই জেলা থেকে উঠে এসে দেশের সর্বোচ্চ পুলিশ পদে আসীন হওয়ায়
স্থানীয়ভাবে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি দেখা গেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন তাকে অভিনন্দন জানিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাইবার অপরাধ, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই নতুন আইজিপির সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তার দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং মাঠপর্যায়ের কাজের দক্ষতা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রয়েছে তার কাছে।
দায়িত্ব গ্রহণ ও প্রত্যাশা
শিগগিরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে। পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন, সদস্যদের কল্যাণ
এবং জনআস্থা বৃদ্ধির বিষয়গুলো তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
সরকারের এ সিদ্ধান্তে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, নতুন আইজিপির নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কী ধরনের কৌশল ও উদ্যোগ সামনে আসে।
