শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়নের চিত্র। পদ্মা সেতু থেকে মেট্রোরেল, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিস্তারিত পড়ুন।
বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের এক বিস্ময়। বিশেষ করে গত দেড় দশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশটি তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রে এসেছে আমূল পরিবর্তন।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন
শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব গতি সঞ্চার হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি: ২০০৬ সালে মাথাপিছু আয় ছিল মাত্র ৪৬৩ মার্কিন ডলার, যা ২০২২ সাল নাগাদ ২,৫৯১ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
দারিদ্র্যের হার হ্রাস: এক সময়কার উচ্চ দারিদ্র্যের হার ৪০% থেকে নেমে বর্তমানে ৬%-এ এসে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক অবস্থান: বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪৩তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মেগা প্রজেক্ট: বদলে যাওয়া অবকাঠামো
বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা বলতে গেলে মেগা প্রকল্পগুলোর কথা সবার আগে আসে। শেখ হাসিনার সাহসিকতায় নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান বাস্তবতা। এ ছাড়া যাতায়াতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে মেট্রোরেল এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম তলদেশীয় টানেল কর্ণফুলী টানেল। মহাকাশ জয়ে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ ছিল প্রযুক্তির এক বিশাল মাইলফলক।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নীরব বিপ্লব
একটি শিক্ষিত ও সুস্থ জাতি গঠনের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ছিল অত্যন্ত কার্যকরী:
- শিক্ষার হার: দেশের শিক্ষার হার ৫১.৭% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ৭৪.৬৬%-এ পৌঁছেছে।
- প্রাথমিক শিক্ষা: বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির হার ৯৯%-এর কাছাকাছি, যা শিক্ষার প্রসারে এক অভাবনীয় সাফল্য।
- স্বাস্থ্যসেবা: শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে প্রতি হাজারে ২৩.৬৭-এ নামিয়ে আনা হয়েছে এবং মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাসেও বাংলাদেশ বৈশ্বিক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা
বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশ। কৃষি খাতে সরকারের ভতুর্কি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভূমিহীনদের জন্য মাসিক অনুদান এবং গৃহহীনদের জন্য সরকারি উদ্যোগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত।
নারীর ক্ষমতায়ন ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি
নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত।
পুরস্কার ও সম্মাননা: নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে “এজেন্ট অফ চেঞ্জ” এবং “প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন” পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে।
কর্মসংস্থান: সরকারি ও বেসরকারি প্রতিটি স্তরে নারীর অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নেতৃত্ব
শেখ হাসিনা কেবল বাংলাদেশের নেতা নন, বরং বিশ্বমঞ্চে একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতা হিসেবে স্বীকৃত। তিনি রেকর্ড ১৭ বার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের উন্নয়নের মডেলে প্রশংসা করেছে।
বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের এই দ্রুত জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে “দক্ষিণ এশিয়ার রাইজিং স্টার” হিসেবে অভিহিত করেছে। এ ছাড়া ভারত ও চীনের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের এই দ্রুততাকে বিশ্বের জন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।
লক্ষ্য এখন স্মার্ট বাংলাদেশ
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য অর্জন করেছে।
এখন সরকারের ভিশন হলো ২০৪১ সালের মধ্যে একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ করা।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ অচিরেই বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাতারে জায়গা করে নেবে।

প্রাইমা হোসাইন
বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা ও নারী উদ্যোক্তা
