জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজে যেতে বাধা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার—বিস্ফোরক অভিযোগ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের। রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
ঈদগাহে যেতে বাধা, বিস্ফোরক অভিযোগ রাষ্ট্রপতির
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন ঝড় তুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি দাবি করেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে টানা দুই ঈদে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে যেতে দেয়নি।
গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দৈনিক কালের কণ্ঠ–কে এসব অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে ‘মনস্তাত্ত্বিক চাপ’, ‘পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা’ এবং ‘অসাংবিধানিক উদ্দেশ্য’র ইঙ্গিত—যা দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় গভীর তাৎপর্য বহন করছে।
‘রেওয়াজ ভাঙার পেছনে কী উদ্দেশ্য?’
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় রাষ্ট্রপতির জন্য একটি প্রচলিত রেওয়াজ। রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন এই মাঠে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
কিন্তু তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে তাঁকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়—তিনি যেন সেখানে না যান। রাষ্ট্রপতির ভাষায়,
“আমাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আপনি ঈদের নামাজে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহে যাবেন না।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলমান একটি রাষ্ট্রীয় রেওয়াজ হঠাৎ করে কেন ভেঙে দেওয়া হলো?
‘পদত্যাগে বাধ্য করার চেষ্টা’
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি ইঙ্গিত দেন, তাঁকে মানসিকভাবে চাপে রেখে স্বেচ্ছায় পদত্যাগে বাধ্য করার কৌশল থাকতে পারে।
তাঁর মতে, তিনি ভেঙে পড়লে অসাংবিধানিকভাবে পছন্দের কাউকে রাষ্ট্রপতির আসনে বসানোর সুযোগ তৈরি হতো।
রাষ্ট্রপতির বক্তব্য,
“আমি যেন মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভেঙে পড়ি, এটাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।”
তিনি আরও বলেন, নিজেদের পছন্দের রাষ্ট্রপতি থাকলে নির্বাচন বিলম্বিত করা বা ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার সুযোগ তৈরি হতে পারত—এমন আশঙ্কাও তাঁর রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের নীরবতা
অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির এমন সরাসরি অভিযোগ
উপেক্ষা করা সরকারের জন্য কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে যখন অভিযোগটি এসেছে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন ব্যক্তির কাছ থেকে,
তখন এর সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়।
সাংবিধানিক বিতর্কের ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির চলাচল ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া কী—সে প্রশ্নও এখন সামনে আসছে।
যদি নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তার ব্যাখ্যা জনসমক্ষে আসা প্রয়োজন।
আর যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় হয়ে থাকে, তবে তা আরও বড় সাংবিধানিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অংশ এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
সেই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতিকে বিরত রাখার অভিযোগ নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের চেয়ে অনেক বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
