বিদায়ের দিনে তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ; অভিযোগ অস্বীকার করে স্বচ্ছতার দাবি তাজুলের।
বিদায়ের দিনে তাজুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে বিদায়ের দিনে মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম–এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, চিফ প্রসিকিউটরের চেয়ারকে ‘টাকা আয়ের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিল। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন তাজুল ইসলাম।

ফেসবুক পোস্ট ঘিরে অভিযোগের সূত্রপাত
সোমবার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া একটি পোস্টে মন্তব্য করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। সেখানে তিনি তাজুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম–এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন।
সুলতান মাহমুদের দাবি, আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলার আসামি সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হকের স্ত্রী একদিন ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর তামীমের কক্ষে প্রবেশ করেন। বিষয়টি তিনি তাজুল ইসলামকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে ওই এসআইকে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) করা হয় এবং রায়ে তাঁকে ক্ষমা করা হয়।
রাজসাক্ষী করা নিয়ে প্রশ্ন
সুলতান মাহমুদ আরও প্রশ্ন তোলেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন–কে রাজসাক্ষী করার সিদ্ধান্ত নিয়েও। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে রাজসাক্ষী করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন।
এছাড়া রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়া এবং চানখাঁরপুলের ঘটনায় ‘গুলি চালানোর নির্দেশ’ দেওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এক কর্মকর্তাকে আসামি না করে সাক্ষী করার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ গত ১৭ নভেম্বরের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান–কে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই মামলায় সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল–মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে দণ্ডিত হন।
তাজুল ইসলামের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে কেউ অভিযোগ করলে তা আমলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তাঁর ভাষ্য, ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া ছিল স্বচ্ছ এবং আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত।
ভারী ব্যাগ নিয়ে কক্ষে প্রবেশের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটা আমার জানা নেই।”
প্রসিকিউটর তামীমও অভিযোগগুলোকে “মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেন।
নতুন চিফ প্রসিকিউটরের অবস্থান
সরকার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে মো. আমিনুল ইসলাম–কে নিয়োগ দিয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথম দিনেই এ ধরনের অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে চান না।
তবে অভিযোগের সত্যতা থাকলে তা তাঁর কাছে আসবে এবং তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক ও আইনি তাৎপর্য
বিদায়ের দিনে এমন অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রাজসাক্ষী করা, অব্যাহতি প্রদান
এবং সাক্ষী নির্ধারণের মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলো এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের মুখ দেখেনি। ফলে বিষয়টি প্রমাণ বা অপ্রমাণ—দুই দিকেই যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হলে ট্রাইব্যুনালের ওপর জনআস্থা বজায় থাকবে।
