তেজগাঁও ও উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৭টি মানবখুলি ও বিপুল হাড় উদ্ধার করেছে ডিএমপি। মানবকঙ্কাল চোর চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার।
তেজগাঁও–উত্তরায় ৪৭ খুলি উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
রাজধানীর তেজগাঁও ও উত্তরা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৪৭টি মানবখুলি এবং মানবদেহের বিপুল পরিমাণ হাড় উদ্ধার করেছে Dhaka Metropolitan Police। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তারা সংঘবদ্ধ মানবকঙ্কাল চোর চক্রের সদস্য।
মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার Ibne Mizan।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার চারজন
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—
- কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক (২৫)
- মো. আবুল কালাম (৩৯)
- আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ (৩২)
- মো. ফয়সাল আহম্মেদ (২৬)
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে কয়েকটি প্লাস্টিক ব্যাগে রাখা ৪৭টি মানবখুলি এবং মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের হাড় উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় রাজধানীর Tejgaon Police Station-এ একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তেজগাঁওয়ে প্রথম অভিযান
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর Tejgaon এলাকার মণিপুরিপাড়া ১ নম্বর গেটের সামনে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় কাজী জহরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পরে জহরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে Tejgaon College-এর সামনে অভিযান চালিয়ে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তাদের কাছ থেকে আরও দুটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
উত্তরা ডেন্টাল হোস্টেল থেকে উদ্ধার ৪৪ কঙ্কাল
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে Uttara পশ্চিম থানার একটি ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের হোস্টেলে অভিযান চালায় পুলিশ।
সেখানকার একটি কক্ষ থেকে মো. ফয়সাল আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ওই কক্ষে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা অবস্থায় ৪৪টি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে।
এই উদ্ধার হওয়া কঙ্কালগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই মানুষের মাথার খুলি এবং শরীরের বিভিন্ন অস্থি ছিল।
কবরস্থান থেকে কঙ্কাল চুরির অভিযোগ
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা দেশের বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে Gazipurসহ আশপাশের কবরস্থান থেকে গোপনে কবর খুঁড়ে মানবকঙ্কাল চুরি করতেন।
পরে এসব কঙ্কাল বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা হতো।
পুলিশ ধারণা করছে, চিকিৎসা শিক্ষা বা গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য অবৈধভাবে এসব কঙ্কাল বিক্রি করা হতো।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আবুল কালামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ২১টি মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে আসাদুল মুন্সীর বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি মামলা।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে। তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত অব্যাহত
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মানবকঙ্কালগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং কারা এগুলো কিনত—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া কবরস্থান থেকে মানবদেহের অস্থি চুরি করে বিক্রি করার সঙ্গে জড়িত বড় কোনো চক্র রয়েছে কি না তাও তদন্ত করা হচ্ছে।
ডিএমপি বলছে, এ ধরনের অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
