কড়াইল বস্তিতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে নতুন সামাজিক কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রান্তিক পরিবার পাবে সরাসরি আর্থিক সহায়তা।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর কড়াইল বস্তির নারী ও শিশুদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে নতুন এক মানবিক কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে সরাসরি প্রান্তিক ও হতদরিদ্র মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কড়াইল এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
কড়াইল বস্তিতে উদ্বোধনী কার্যক্রম
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজধানীর Korail Slum, সাততলা বস্তি এবং ভাষানটেক এলাকার ১৫ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়মের সুযোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাইলট প্রকল্পে ১৩ জেলার মানুষ
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে।
এই পর্যায়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন উপকারভোগী ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আসবেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাইলট প্রকল্পের ফলাফল পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্য
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী A Z M Zahid Hossain।
তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা।”
তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে যাতে সুবিধাভোগীদের কাছে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সহায়তা পৌঁছানো যায়।
৩০ জুনের মধ্যে পাইলট শেষ করার পরিকল্পনা
সরকার জানিয়েছে, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম শেষ করা হবে।
এরপর এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে দেশের অন্যান্য জেলা ও শহরেও ধাপে ধাপে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগ দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে।
স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। কেবলমাত্র প্রকৃত হতদরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলোই এই সুবিধা পাবে।
এ জন্য উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল ডাটাবেজ ব্যবহার করা হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডিজিটাল সমন্বয়
সরকার ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে প্রায় ৯৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে এসব কর্মসূচিকে একত্রিত করে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।
এতে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ার পাশাপাশি সরকারের সহায়তা কর্মসূচির কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
