যুক্তরাষ্ট্রে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ ঘিরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মন্তব্য, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে বাড়ছে জনঅসন্তোষ—বিশ্লেষণসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাতের মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক জনঅসন্তোষ তৈরি হচ্ছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
রোববার (২৯ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনুষ্ঠিত ‘নো কিংস’ বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সমাজের একটি বড় অংশ এখন দেশটির নীতিনির্ধারণে বাইরের প্রভাব—বিশেষ করে ইসরায়েলপন্থী অবস্থান—নিয়ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’
শিরোনামে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। রাজধানী ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ এতে অংশ নেন।
পেজেশকিয়ান এই বিক্ষোভকে মার্কিন সমাজের “গভীর অসন্তোষের প্রতিফলন” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)
বিশেষজ্ঞদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁদের উচিত বাস্তব পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে তুলে ধরা। তাঁর ভাষায়, “মার্কিন জনগণ ‘নো কিংস’
বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে—এটি প্রমাণ করে যে তারা বর্তমান নীতির প্রতি ক্ষুব্ধ, বিশেষ করে ‘ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার’ দেওয়ার কারণে।”
ইরানি প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, মার্কিন নাগরিকদের একাংশ “গণতন্ত্রের ওপর বাইরের প্রভাব” নিয়ে ক্লান্ত এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের আরও সচেতন
হওয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা শুরু করে। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-সহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন বলে তেহরান দাবি করে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।
দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি হামলা এক মাস ধরে চলমান, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর এবং সৌদি আরব যৌথভাবে দুই পক্ষকে আলোচনায় বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ শুধু একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
