মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন বাহিনী শেষ পর্যন্ত সরে যাবে বলে দাবি আইআরজিসি কমান্ডার ইসমাইল কানির; উত্তেজনা বাড়ছে অঞ্চলে।
কানির বিস্ফোরক মন্তব্য
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কুদস ফোর্সের কমান্ডার ইসমাইল কানি দাবি করেছেন, শেষ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে যেতে বাধ্য হতে হবে। সাম্প্রতিক এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন।
তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে।
লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রসঙ্গ
কানি তার বক্তব্যে বলেন, ইয়েমেনের ‘বীর মুজাহিদিন’ এবং স্থানীয় জনগণের প্রতিরোধের মুখে মার্কিন বাহিনী বাব আল-মান্দেব প্রণালী অতিক্রম করতে পারেনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী লোহিত সাগর অঞ্চলে কার্যত পিছু হটেছে এবং পরিস্থিতি আড়াল করতে ‘গল্প তৈরি’ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য মূলত ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পকে কটাক্ষ
ইসমাইল কানি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। বিশেষ করে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে তিনি লেখেন, “ক্রিমিনাল ট্রাম্পের উচিত ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের কমান্ডারকেও বরখাস্ত করা।”
এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, ইরানের সামরিক নেতৃত্ব শুধু সামরিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রাখতে চাইছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও শক্তির লড়াই
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে বহুমুখী সংঘাত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গাজা ইস্যু, ইয়েমেন সংকট, এবং ইরান-ইসরায়েল বৈরিতা—সব মিলিয়ে
অঞ্চলটি অত্যন্ত অস্থির। এই প্রেক্ষাপটে কানির বক্তব্যকে অনেকেই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়েও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে।
কানির অবস্থান নিয়ে রহস্য
এদিকে, ইসমাইল কানির অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে
ইরান সরকার তা অস্বীকার করে এবং দাবি করে, এটি ইসরায়েলের ‘মিথ্যা প্রচারণা’। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার নামে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে
—তিনি সরাসরি এসব বার্তা দিচ্ছেন, নাকি এটি কৌশলগত প্রচারণার অংশ।
সম্ভাব্য প্রভাব
কানির এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর
এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে।
একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
ইসমাইল কানির বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্রদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার এই লড়াই আগামী দিনে আরও জটিল আকার নিতে পারে।
