আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকাহত রুনা লায়লা। দিদিকে হারিয়ে নিজেকে শূন্য মনে করছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
প্রিয় ‘আশা দিদি’কে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ রুনা লায়লা
উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা প্রিয় ‘আশা দিদি’কে হারিয়ে যেন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কিংবদন্তি শিল্পী আশা ভোঁসলে-এর প্রয়াণে তিনি জানিয়েছেন, এই ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো সংগীত জগতের জন্য অপূরণীয়।
রুনা লায়লা আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “পৃথিবীর বড় বড় দুজন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। ২০২২ সালে লতা মঙ্গেশকর দিদি চলে গেলেন, আর আজ চলে গেলেন আশা দিদি। আমার মনে হচ্ছে, আমার চেনা পৃথিবীটাই যেন শূন্য হয়ে গেছে।”
পেশার বাইরে ছিল পারিবারিক সম্পর্ক
আশা ভোঁসলের সঙ্গে রুনা লায়লার সম্পর্ক কেবল পেশাদার সীমাবদ্ধতায় আটকে ছিল না। বরং তা ছিল এক গভীর পারিবারিক বন্ধন। রুনা লায়লা জানান, আশা ভোঁসলে ও লতা মঙ্গেশকর—দুজনেই তাকে নিজের মেয়ের মতো স্নেহ করতেন।
তিনি বলেন, “তারা দুজনেই আমাকে মায়ের মতো ভালোবাসতেন। এই ভালোবাসার বন্ধন হারানো সত্যিই অসহনীয়।”
শেষ দেখা ও অপূর্ণ আক্ষেপ
রুনা লায়লা স্মৃতিচারণ করে জানান, আশা ভোঁসলের সঙ্গে তার শেষ সরাসরি দেখা হয়েছিল একটি গানের রেকর্ডিংয়ের সময়। গানটির নাম ছিল ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’, যা তার নিজের সুরে তৈরি হয়েছিল।
এরপর ফোনে একাধিকবার কথা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে আর যোগাযোগ করা হয়নি। এই বিষয়টি এখন তার মনে গভীর আক্ষেপ হয়ে আছে।
তিনি বলেন, “কয়েক দিন ধরেই ভাবছিলাম দিদিকে একটা ফোন দেব। কিন্তু আজ-কাল করতে করতে আর কথা বলা হলো না। এই আক্ষেপ আমাকে সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে।”
না বলা শেষ কথার কষ্ট
এই প্রখ্যাত শিল্পীর কণ্ঠে আজ কেবলই বেদনার সুর। তিনি জানান, “যখনই মনে হয়েছে ফোন করি, তখনই যদি করে ফেলতাম, তাহলে
আজ এই শূন্যতা এতটা তীব্র হতো না। শেষ কথাটাও বলা হলো না—এই কষ্টটা বুকের ভেতর পাথরের মতো চেপে আছে।”
তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা কতটা ছিল এবং সেই বন্ধন ছিন্ন হওয়ার যন্ত্রণা কতটা তীব্র।
উপমহাদেশীয় সংগীতের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি
আশা ভোঁসলের প্রয়াণের মাধ্যমে উপমহাদেশীয় সংগীতের একটি সোনালি অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন সংগীত বিশ্লেষকরা।
তার কণ্ঠ, সুরের বৈচিত্র্য এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ার তাকে সংগীত ইতিহাসের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
রুনা লায়লার মতো শিল্পীদের কাছে তিনি শুধু একজন সহশিল্পী নন, ছিলেন পথপ্রদর্শক ও অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, সহজে পূরণ হওয়ার নয়। রুনা লায়লার আবেগঘন প্রতিক্রিয়া সেই শূন্যতার গভীরতাই প্রকাশ করে।
সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে এই দুই কিংবদন্তি—লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলে—চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবেন।
