ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ওমরাহ যাত্রার সময় ফেরত পাঠায় ইমিগ্রেশন পুলিশ, স্টপলিস্টে থাকায় ভ্রমণ বাতিল।
বিমানবন্দর থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ফেরত
ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় বিশিষ্ট সাংবাদিক Iqbal Sobhan Chowdhury-কে ঢাকার Hazrat Shahjalal International Airport থেকে ফেরত পাঠিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।
ওমরাহ যাত্রার আগে বাধা
জানা গেছে, দৈনিক অবজারভার পত্রিকার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সৌদি আরবের জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল। তিনি Saudia-এর এসভি-৮০৯ নম্বর ফ্লাইটে যাত্রা করার জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছান।
তবে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় তাকে ভ্রমণের অনুমতি না দিয়ে অফলোড করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তার যাত্রা স্থগিত করা হয়।
স্টপলিস্টে নাম থাকায় বাধা
বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ইকবাল সোবহান চৌধুরীর পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন বিভাগের স্টপলিস্টে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে নিয়ম অনুযায়ী তাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি।
সূত্র আরও জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলায় তিনি আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এসব মামলার কারণে তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
জিডি দায়ের ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার পর ইমিগ্রেশন পুলিশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করে। দুপুর আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে তাকে
আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাইট থেকে অফলোড করা হয়। পরে তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করে নিজ বাসায় ফিরে যান বলে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
আইনি প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা তদন্ত চলমান থাকলে এবং আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে তাকে বিদেশ গমনে
বাধা দেওয়া হতে পারে। ইমিগ্রেশন বিভাগের স্টপলিস্ট এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়।
প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা
এই ঘটনাকে ঘিরে সাংবাদিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন,
আবার কেউ কেউ আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
বিশেষ করে একজন সিনিয়র সাংবাদিককে এভাবে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো ঘটনাটি গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
Iqbal Sobhan Chowdhury-কে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানোর ঘটনা আইনি প্রক্রিয়া, মানবাধিকার এবং গণমাধ্যম স্বাধীনতা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে আছে।
ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা তার নিজস্ব প্রতিক্রিয়া এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
