বাংলাদেশে এক মাসে হাম ও উপসর্গে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে। সরকার দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছে।
এক মাসে হাম রোগে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু
বাংলাদেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে Measles বা হাম রোগের প্রাদুর্ভাব। গত এক মাসে এই রোগ ও এর উপসর্গে মারা গেছে ১৯৮ জন শিশু। একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ১৬১ জনে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন উপসর্গভিত্তিক এবং একজন ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী।
এই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১,১০৮ জন শিশু। এর মধ্যে সন্দেহভাজন রোগী ১,০৩২ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে ৭৬ জন।
বিভাগভিত্তিক সংক্রমণ পরিস্থিতি
সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে Dhaka Division, যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৮,২৬০ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে Chattogram Division, যেখানে ২,৫১৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনবসতি, টিকাদানের ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাব এই সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
বিভিন্ন জেলায় মৃত্যুর ঘটনা
সিলেট
MAG Osmani Medical College Hospital-এ হাম উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে এই হাসপাতালে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। মৃত শিশুদের বয়স প্রায় ১০ মাস।
শরীয়তপুর
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে জাহিদ নামে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে লামিয়া খাতুন নামে দেড় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভর্তি হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে।
হাসপাতালগুলোর বর্তমান অবস্থা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে বর্তমানে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। অন্যদিকে, শরীয়তপুরে ৬৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
সরকারের টিকাদান কর্মসূচি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে।
শুরুতে বেশি আক্রান্ত ৩০টি জেলায় এই কার্যক্রম চালু হলেও বর্তমানে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ এবং নিয়মিত টিকাদানই এর প্রধান প্রতিকার। তবে টিকাদানে অনীহা এবং সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই সংক্রমণ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক হতে পারে, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম।
তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করতে এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে।
বাংলাদেশে Measles পরিস্থিতি বর্তমানে একটি জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিচ্ছে। এক মাসে ১৯৮ শিশুর মৃত্যু এবং প্রায় ২০ হাজার সংক্রমণ পরিস্থিতির
ভয়াবহতাই তুলে ধরে। এখনই সমন্বিত উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না করলে ভবিষ্যতে সংকট আরও গভীর হতে পারে।
