নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে যুবদল কর্মী গুলিবিদ্ধ, আহত অন্তত ৮। রাজনৈতিক উত্তেজনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ।
নোয়াখালীতে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ যুবদল কর্মী
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক যুবদল কর্মী। এ ঘটনায় অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কোথায় ও কখন ঘটনা
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আগে থেকেই বিরোধ চলছিল, যা পরে সহিংস রূপ নেয়।
গুলিবিদ্ধ ও আহতদের পরিচয়
গুলিবিদ্ধ যুবদল কর্মীর নাম শাকিল মাহমুদ (৩১)। তিনি একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী বলে জানা গেছে।
এছাড়া সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আলাউদ্দিন, মহর আলী, মনোয়ারা বেগম, মাহফুজুর রহমান, নাসরিন আক্তার, আলমগীর হোসেন ও জহিরসহ অন্তত ৮ জন।
সংঘর্ষের পেছনের কারণ
স্থানীয়দের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন দুই বিএনপি কর্মীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। সেই ঘটনার জের ধরে সোমবার বিকেলে ছয়ানী বাজারে আবারও মারধরের ঘটনা ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় রাতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
কে গুলি চালিয়েছে?
গুলিবর্ষণের ঘটনায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলাউদ্দিন অভিযোগ করেন, স্থানীয় রাকিব নামে এক ব্যক্তি গুলি ছুড়লে শাকিল আহত হন।
তবে অভিযুক্ত রাকিব এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো গুলি চালাননি। বরং বিএনপি নেতার অস্ত্র থেকে ‘মিস ফায়ার’ হয়ে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে দাবি করেন।
রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত—উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, জামায়াতের লোকজন তাদের মিছিলে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল।
এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে প্রকৃত ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
পুলিশের অবস্থান
বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকায় উত্তেজনা
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রাজনৈতিক সহিংসতার এমন ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
নোয়াখালীর এই সংঘর্ষ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন। গুলিবিদ্ধের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
