চট্টগ্রামে ফেসবুক লাইভে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক দোকানি। ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ।
ফেসবুক লাইভে চাঁদাবাজির অভিযোগ, বিষপানে দোকানির আত্মহত্যার চেষ্টা
চট্টগ্রামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক ব্যবসায়ী। ঘটনাটি ঘিরে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে দোকান ভাড়ার নামে অর্থ দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে মানসিক চাপে পড়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার ভোরে নগরের কোতোয়ালি থানার বক্সিরহাট এলাকায়। বর্তমানে ওই ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি শঙ্কামুক্ত আছেন।
লাইভে এসে অভিযোগের বিস্ফোরণ
আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যবসায়ীর নাম সুমন ঘোষ (৪৮)। তিনি বক্সিরহাট এলাকায় ‘স্বপন ঘোষ অ্যান্ড সন্স’ নামে একটি মসলাজাতীয় পণ্যের ব্যবসা পরিচালনা করেন।
ফেসবুক লাইভে এসে সুমন ঘোষ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপির নাম ব্যবহারকারী তিন ব্যক্তি তাঁর কাছে দোকান ভাড়ার নামে নিয়মিত অর্থ দাবি করছিলেন। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিরা পরস্পরের ভাই এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
লাইভে সুমন ঘোষ বলেন, দোকানের প্রকৃত মালিককে ভাড়া দেওয়ার কথা জানালে তাঁকে বলা হয়, এটি ভাড়া নয়, চাঁদা হিসেবে দিতে হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ার কারণে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
বিষপানের পর হাসপাতালে ভর্তি
ফেসবুক লাইভ চলাকালীন সময়েই সুমন ঘোষ বিষপান করেন বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম জানান, বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
দোকানের মালিকানা নিয়ে বিরোধের তথ্য
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুমন ঘোষ পরিচালিত দোকানটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।
এই বিরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধেই তিনি ফেসবুক লাইভে অভিযোগ তুলেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকায় বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে সুমন ঘোষ অতীতে স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগের পর অভিযুক্তদের একজন কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
তদন্তে পুলিশ
ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ নাজমুন নূর জানিয়েছেন,
ফেসবুক লাইভে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপির প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, দলীয়ভাবে তাঁদের কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আগে আসেনি।
তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা কী, তা তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসা উচিত। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন,
কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে বিষয়টি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক
পরিচয়ের আড়ালে কেউ চাঁদাবাজি বা হয়রানির সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
চট্টগ্রামে ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার চেষ্টার এই ঘটনা শুধু একজন ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত সংকট নয়,
বরং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি স্থানীয় ব্যবসায়ী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলতে পারে।
এখন তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
