২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
২৩ জুন ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্কতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
আগামী ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সম্ভাব্য নাশকতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২০ জুন) সচিবালয়ে পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
২৩ জুন ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২৩ জুনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা জোরদার এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, সম্ভাব্য যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে মন্ত্রীর বক্তব্য
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকারের দৃষ্টিতে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে এবং এ অবস্থায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
মোহাম্মদপুরের অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অপরাধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমান সরকার সেখানে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে অপরাধীদের কার্যক্রম সীমিত হয়ে আসছে।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার আশাবাদী।
পুলিশ বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি পেয়েছে
পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একসময় জনগণের মধ্যে পুলিশ বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল।
তবে বর্তমানে পুলিশ সদস্যরা পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই বিভিন্ন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে বাহিনীর মনোবল আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারের বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল দিনগুলোকে সামনে রেখে সরকারের এই সতর্ক অবস্থান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি বা বিতর্কিত ইস্যুকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, আইন নিজের গতিতে চলবে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
২৩ জুনকে সামনে রেখে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা সরকারের সতর্ক অবস্থানেরই প্রতিফলন।
এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতা এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা কতটা সম্ভব হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
