কিয়েভ ও দনিপ্রোতে রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত অন্তত ১০, আহত প্রায় ১০০। আতঙ্কে আশ্রয়কেন্দ্রে হাজারো মানুষ।
ইউক্রেনে রাশিয়ার বড় হামলা, নিহত অন্তত ১০, আহত প্রায় ১০০
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে সংঘটিত এ হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। হামলার পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে এটি চলমান যুদ্ধের অন্যতম বড় আক্রমণগুলোর একটি।
কিয়েভে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর চালানো হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন। শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ তলা একটি আবাসিক ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়ে। এতে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে নয়তলা একটি ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। ওবোলন জেলায় একাধিক গাড়ি পুড়ে যায় এবং কয়েকটি খোলা স্থানেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একটি কিন্ডারগার্টেনের কাছাকাছি এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হামলার সময় হাজার হাজার মানুষ মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান। অনেককে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও শিশুদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
দনিপ্রো ও খারকিভেও হতাহত
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দনিপ্রো এবং আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া আবাসিক ভবন, পুড়ে যাওয়া যানবাহন এবং শিশুদের খেলার মাঠের ক্ষতিগ্রস্ত দৃশ্য দেখা গেছে।
অন্যদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলেও রুশ হামলায় একটি শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র ইহর তেরেখভ।
প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা
গত সপ্তাহে রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকেই মস্কো বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক
হামলার হুমকি দিয়ে আসছিল। ক্রেমলিন দাবি করেছে, ওই হামলার পেছনে ইউক্রেন জড়িত ছিল। তবে কিয়েভ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুদ্ধের দুই পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
জেলেনস্কির আগাম সতর্কবার্তা
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বড় ধরনের রুশ হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন।
এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার তথ্য রয়েছে
এবং নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। তাঁর মতে, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বৃহৎ আকারের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
রাশিয়াও ইউক্রেনীয় হামলার মুখে
শুধু ইউক্রেন নয়, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলও ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
দক্ষিণ রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের ইলস্কি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর আগুন লাগে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
এ ছাড়া সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি ড্রোন হামলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুও আহত হয়েছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাতভর ইউক্রেনের ১৪৮টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
পাশাপাশি ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপল নৌঘাঁটিতেও ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগে অগ্রগতি নেই
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
সাম্প্রতিক হামলা নতুন করে প্রমাণ করছে যে, যুদ্ধের ভয়াবহতা এখনো কমেনি।
বরং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ফলে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।
