চিটাগাং রোডের শনির আখড়া থেকে মদনপুর পর্যন্ত উল্টো পথে দ্রুতগতির যান চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। জুনের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
চিটাগাং রোডে উল্টো পথে যান চলাচল, বাড়ছে প্রাণহানির শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক | অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অত্যন্ত ব্যস্ত অংশ চিটাগাং রোডের শনির আখড়া থেকে মদনপুর পর্যন্ত দীর্ঘ অংশজুড়ে উল্টো পথে যানবাহন চলাচল এখন নিত্যদিনের চিত্র। মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত যান এমনকি কিছু পণ্যবাহী যানও নিয়ম ভেঙে বিপরীতমুখী লেনে দ্রুতগতিতে চলাচল করছে। এতে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী ও পথচারী চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের ব্যস্ত সময় থেকে গভীর রাত—প্রায় সব সময়ই এই অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান তদারকি খুবই সীমিত। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
উল্টো পথে দ্রুতগতির যান, বাড়ছে আতঙ্ক
সড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, উল্টো পথে দ্রুতগতিতে আসা যানবাহনের কারণে বৈধভাবে চলা গাড়ির চালকরাও হঠাৎ বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও সিএনজি চালকদের বেপরোয়া আচরণ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।
স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী কর্মজীবী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কঠোরতা না থাকায় চালকদের মধ্যে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা বেড়ে গেছে।
জুনে দেশে ৪৩৮ প্রাণহানি, উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুন মাসে দেশে ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং অন্তত ৫৬১ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ৪৪ জন নারী ও ৫৬ জন শিশু। একই সময়ে ১৪৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট নিহতের প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি। এছাড়া ৯১ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে।
ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ১১৬টি দুর্ঘটনায় ১১৮ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৩২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন।
দুর্ঘটনার পেছনে যেসব কারণ
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—
- উল্টো পথে যান চলাচল ও বেপরোয়া গতি
- ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ও যানবাহন
- চালকদের অদক্ষতা ও অসচেতনতা
- ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়া
- দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
- মহাসড়কে ধীরগতির ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল
- পরিবহন খাতে নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার ঘাটতি
চিটাগাং রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে উল্টো পথে যান চলাচল বন্ধ করা না গেলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয়দের দাবি
এলাকাবাসী ও নিয়মিত যাত্রীদের দাবি—
- উল্টো পথে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা।
- গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সার্বক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন।
- সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় জরিমানার ব্যবস্থা।
- অবৈধ ইউ-টার্ন ও অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ বন্ধ করা।
- পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং কার্যকর করা।
তাদের মতে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।
সড়ক নিরাপত্তায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অভিযান পরিচালনা নয়, চালকদের প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
পাশাপাশি মহাসড়কে নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণই পারে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে।
চিটাগাং রোডের শনির আখড়া থেকে মদনপুর পর্যন্ত অংশে দীর্ঘদিন ধরে চলা উল্টো পথে যান চলাচল বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
