বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডে ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতির মামলায় সাবেক এমপি আফজাল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিস্তারিত জানুন।
রাজধানীর বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
এদিন কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগার থেকে আফজাল হোসেনকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মাইনুল ইসলাম খান পুলক তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।
কী বলা হয়েছে মামলার অভিযোগে
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল ভোরে রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর ব্যবসায়ী কামাল হোসেন রিপন শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে মার্কেটে আগুন লাগানো হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিয়ে ২ হাজার ৩৭০ জন দোকান মালিক দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। পরবর্তীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দোকানের সংখ্যা বাড়িয়ে ২ হাজার ৯৬১টি করা হয়। অতিরিক্ত দোকান বরাদ্দের মাধ্যমে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বহুতল ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা ও বিরোধ
মামলার বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে পুরোনো মার্কেট ভেঙে সেখানে আটতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং চার হাজার ৪১২টি দোকানবিশিষ্ট ভবনের নকশা অনুমোদন করা হয়। একই বছর ঢাকা সিটি করপোরেশন মার্কেট খালি করার জন্য একাধিকবার নোটিশ দেয়।
পরবর্তীতে মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে উচ্ছেদ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী,
আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশের ফলে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অসৎ উদ্দেশ্যে মার্কেটে অগ্নিসংযোগের পথ বেছে নেন।
প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতির দাবি
এজাহারে দাবি করা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে মার্কেটের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এতে হাজারো ব্যবসায়ী তাদের দোকান, পণ্য ও মূলধন হারিয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে নানা আলোচনা হলেও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মামলার অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে এসব অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত হয়নি।
আফজাল হোসেনের বর্তমান অবস্থান
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ মেহেরপুর থেকে আফজাল হোসেনকে আটক করে পুলিশ।
এরপর কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
সর্বশেষ এই আদেশের মাধ্যমে বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডের মামলাতেও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, আর্থিক অনিয়ম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে নতুন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
