লালমনিরহাটে অপহরণ-ডাকাতি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মোমছেদুল খান বুলবুল গ্রেপ্তার। র্যাব জানায়, তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে।
অপহরণ-ডাকাতি মামলায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
র্যাবের অভিযানে ধরা পড়লেন মোমছেদুল খান বুলবুল
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মোমছেদুল খান বুলবুলকে অপহরণ, ডাকাতি এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লুটের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩)। র্যাবের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) র্যাব-১৩-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের কাশিরাম মনিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কে এই মোমছেদুল খান বুলবুল?
গ্রেপ্তার মোমছেদুল খান বুলবুল (৩৫) কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুশরাত মদাতী এলাকার বাসিন্দা এবং মো. রকিবুল খানের ছেলে। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ছিলেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এর আগেই তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
অপহরণ ও অর্থ লুটের অভিযোগ
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম (৩০) ও মিস্টার আলী মোটরসাইকেলে করে চাপারহাট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গুরুদয়াল চৌপথি মোড় এলাকায় পৌঁছালে বুলবুল ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের পথরোধ করে।
এরপর দুইজনকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অভিযুক্তের মালিকানাধীন একটি মুরগির খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভোর পর্যন্ত আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ব্যাংকিং থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তাদের বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে মোট ৮ লাখ ২৪ হাজার ১০৭ টাকা জোরপূর্বক স্থানান্তর করা হয়।
পরদিন ভোরে কাউকে বিষয়টি না জানানোর শর্তে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতে মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযান
ঘটনার পর গত ৩ এপ্রিল আদালতে মোমছেদুল খান বুলবুলকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করাহয়।
মামলার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানায় র্যাব।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে র্যাব-১৩ তাকে কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা
পুলিশের অপরাধ তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সিডিএমএস) অনুযায়ী, মোমছেদুল খান বুলবুলের বিরুদ্ধে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা
ও সদর থানায় ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি, গুরুতর আঘাত এবং মারামারিসহ অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের দাবি, এসব মামলার কয়েকটির অভিযোগপত্র ইতোমধ্যে আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত নন।
পুলিশের বক্তব্য
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, র্যাব-১৩ গ্রেপ্তারের পর মোমছেদুল খান বুলবুলকে থানায় হস্তান্তর করেছে।
প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, মামলার তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
