জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন সংস্কৃতি প্রদর্শনী, নিন্দায় হেফাজতে ইসলাম
অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৬
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির দাবি, জাতীয় সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে এ ধরনের আয়োজন দেশের জাতীয় মর্যাদা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এ প্রতিক্রিয়া জানান। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আজহারী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।
সংসদ ভবনের মর্যাদা নিয়ে হেফাজতের বক্তব্য
বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বলেছে, জাতীয় সংসদ ভবন কোনো সাধারণ বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক নয়; এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতীক এবং জাতীয় মর্যাদার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সংগঠনটির মতে, এমন একটি স্থানে বিদেশি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গান-বাজনা ও পশ্চিমা সংস্কৃতিনির্ভর অনুষ্ঠান আয়োজন অনাকাঙ্ক্ষিত।
হেফাজত অভিযোগ করে, এ ধরনের আয়োজন জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও দেশের ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে তাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।
আয়োজকদের সমালোচনা
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যারা এই আয়োজনকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বা সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন, তাদের অবস্থানের সঙ্গে হেফাজত একমত নয়। সংগঠনটির দাবি, এ ধরনের ব্যাখ্যা দেশের একটি বড় অংশের ধর্মীয় অনুভূতি ও জাতীয় চেতনাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে না।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকারও সমালোচনা করা হয়েছে বিবৃতিতে। তবে এসব মন্তব্য হেফাজতে ইসলামের নিজস্ব রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান
হেফাজতে ইসলাম জাতীয় সংসদ ভবনের মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি সরকারকে জাতীয় সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোর মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানায়।
আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
বিবৃতির শেষাংশে হেফাজতে ইসলাম জানায়, ভবিষ্যতেও যদি জাতীয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে তারা মনে করে এমন আয়োজন করা হয়,
তাহলে সংগঠনটি প্রতিবাদ কর্মসূচি বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে তারা শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেছে।
আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা কিংবা মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে হেফাজতে ইসলামের বিবৃতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো
প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সরকারি বা আয়োজক পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে সংযুক্ত করা হবে।
