খিলগাঁও ও মুগদা থানার দুই হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক এমপি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জামিন পেয়েছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
আইন অঙ্গনে বহুল আলোচিত ও আলোচিত-সমালোচিত মুখ, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন দেশের উচ্চ আদালত থেকে বড় ধরনের আইনি স্বস্তি লাভ করেছেন। রাজধানীর পৃথক দুটি থানায় দায়ের করা দুটি গুরুতর ফৌজদারি মামলায় তাকে জামিন প্রদান করেছেন হাইকোর্ট বিভাগ। এর ফলে তার কারামুক্তির পথ অনেকাংশেই সুগম হলো বলে মনে করছেন তার আইজীবীরা।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন এবং বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই যুগপৎ আদেশ প্রদান করেন। আদালতে ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন এবং জামিন আবেদনের শুনানি করেন প্রবীণ আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। দীর্ঘ শুনানি ও উভয় পক্ষের আইনি যুক্তি বিশ্লেষণ শেষে আদালত আগের দুটি মামলায় জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে তাকে জামিন দেওয়ার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
যে দুই মামলায় মিলল আইনি মুক্তি
আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে যেসব মামলায় জামিন দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো রাজধানীর খিলগাঁও থানার একটি হত্যা মামলা এবং অপরটি মুগদা থানার একটি হত্যা চেষ্টা মামলা। বিগত ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর উদ্ভূত বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
শুনানিকালে তার আইনজীবী আদালতকে বোঝাতে সক্ষম হন যে, উল্লিখিত ওই নির্দিষ্ট দুই মামলার ঘটনায় তার মক্করের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এসব মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আদালত সার্বিক দিক বিবেচনা করে রুল অ্যাবসুলেট বা মঞ্জুর ঘোষণা করে তাকে এই জামিন প্রদান করেন।
গ্রেপ্তারের পটভূমি ও আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘ পথচলা
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর গভীর রাতে (রাত দেড়টার দিকে) রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর এলাকা থেকে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে আটক করে।
পরবর্তীতে তাকে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যা ও অপরাধমূলক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দফায় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারের পর থেকেই তার আইজীবীরা দেশের নিম্ন আদালত থেকে শুরুকরে উচ্চ আদালতে জামিন পাওয়ার জন্য ধারাবাহিকভাবে আইনি চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই আদেশের মাধ্যমে খিলগাঁও ও মুগদা থানার দুটি মামলা থেকে তিনি জামিন পেলেন।
তবে তার বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং নিজ এলাকা হবিগঞ্জে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
ফলে অন্যান্য মামলায় তার বর্তমান আইনি অবস্থা এবং মুক্তির প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে যাবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে কৌতূহল রয়েছে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যারিস্টার সুমনের অবস্থান
আইনজীবী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব উপস্থিতি এবং বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভঙ্গি দেখিয়ে অতীতে
তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি মূলধারার রাজনীতিতে আরও বেশি পরিচিতি লাভ করেন।
তবে গত বছরের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের
এবং তার গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আজকের এই হাইকোর্টের জামিন আদেশের মধ্য দিয়ে তার আইনি লড়াইয়ে এটি একটি বড় মাইলফলক হিসেবে যুক্ত হলো।
