পটুয়াখালীর বাউফলে পরকীয়ার অপবাদে স্থানীয় জামায়াত নেতা ফারুক হোসেন প্যাদাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। উভয় পক্ষের দাবি ভিন্ন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী):
দক্ষিণ অঞ্চলের জনপদ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক বা পরকীয়া প্রেমের মনগড়া অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে পিটিয়ে জখম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আহত ওই জামায়াত নেতাকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে নানা গুঞ্জন ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, গত বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে আটটার দিকে বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই হুলস্থুল কাণ্ড বেধে যায়। ওই ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ফারুক হোসেন প্যাদাকে ঘিরে একদল লোক পরকীয়ার অভিযোগ তোলেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এক প্রবাসীর বা সংসারী গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এই জামায়াত নেতা। ঘটনার রাতে ওই নারীর বাড়িতে তার উপস্থিতি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে স্থানীয় কয়েকজন তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে দাবি করা হয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিষয়টি চাউর হয়ে গেলে আশপাশের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ে যায় এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত জামায়াত নেতার বক্তব্য ও পাল্টা অভিযোগ
এদিকে নিজের ওপর আনীত পরকীয়ার সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত জামায়াত নেতা ফারুক হোসেন প্যাদা। হাসপাতালের বেডে শুয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন।
ফারুক হোসেনের দাবি, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পূর্ববিরোধ চলে আসছিল। সেই পুরোনো ক্ষোভ ও আক্রোশের বশবর্তী হয়ে সাইদুল, পারভেজসহ মৃধা বাড়ির বেশ কয়েকজন বখাটে ও প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা পরকীয়ার গল্প সাজানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শুধু তাই নয়, হামলার সময় তার পকেটে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যবহৃত দামি মোবাইল ফোনটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তাকে নিয়ে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
গৃহবধূর পরিবারের চাঞ্চল্যকর দাবি
ঘটনার বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্ত গৃহবধূর শাশুড়ি জাহানারা বেগম সংবাদমাধ্যমের কাছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জামায়াত নেতা ফারুক হোসেন বিগত বেশ কিছুদিন ধরেতার পুত্রবধূকে বিভিন্ন অজুহাতে নানাভাবে উত্যক্ত ও বিরক্ত করে আসছিলেন।
এমনকি বিভিন্ন সময় বড় অংকের টাকা-পয়সার লোভ দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেওয়া হতো বলেও তিনি দাবি করেন।
জাহানারা বেগম আরও জানান, এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও হয়রানির বিষয়টি নিয়ে এর আগেও স্থানীয়ভাবে সালিশ-দরবার ও সামাজিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
কিন্তু সালিশি বৈঠকের পরও ফারুক হোসেন নিজের স্বভাব বদলাননি এবং গোপনে ওই গৃহবধূর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছিলেন।
ঘটনার রাতেও তিনি অসাধু উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মারামারি ও হট্টগোলের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলামের
নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, দাসপাড়া ইউনিয়নে জামায়াত নেতাকে মারধরের একটি খবর পাওয়ার পর
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে থানায় সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
লিখিত অভিযোগ বা এজাহার প্রাপ্ত সাপেক্ষে পুলিশ পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে
এবং ঘটনার সত্যতা সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
