কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়ি থেকে টাইম বোমা ও পেট্রল উদ্ধার। ঢাকা থেকে আসা দল কর্তৃক নিষ্ক্রিয়, এলাকায় বিজিবি মোতায়েন ও নিরাপত্তা জোরদার।
সংবাদ প্রতিবেদন

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত বাউলসম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের পবিত্র আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে একটি সক্রিয় টাইম বোমা ও দুই বোতল পেট্রল উদ্ধার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের একটি বিশেষ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি প্রশাসনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
চলমান তিন দিনব্যাপী লালন শাহর তিরোধান দিবসের আয়োজনকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন। তবে বোমা উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে আখড়াবাড়িতে সমবেত দেশি-বিদেশি সাধু-ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আখড়াবাড়ির মূল ফটক সংলগ্ন ডান পাশে একটি নারকেলগাছের নিচে সন্দেহজনক একটি সাদা ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানানো হয়। রাতেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ এবং নিরাপত্তার স্বার্থে ভেতরে অবস্থানরত সাধু-ফকিরদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ঘটনার পর কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাত দেড়টার দিকে কুমারখালী থানার ওসির মাধ্যমে আখড়াবাড়িতে সন্দেহজনক বস্তু থাকার খবর পাওয়া যায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এটি একটি টাইম বোমা ছিল এবং সময়মতো নিষ্ক্রিয় করায় একটি বড় নাশকতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
দুর্বৃত্তরা হয়তো শুধু এলাকায় আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এমন কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং দর্শনার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
সোমবার দুপুর ১২টা থেকে আখড়াবাড়ির প্রবেশপথে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।
সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সেখানে বিজিবির দুই প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আখড়াবাড়িতে প্রবেশের প্রতিটি সড়ক, মোড় এবং মূল ফটকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা তল্লাশি চলছে।
উৎসবের আমেজ ও তদন্তের অগ্রগতি
ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।
দেশের দূরদূরান্ত থেকে বাউল, সাধক ও অনুসারীরা এখানে এসে মনের টানে গান ও সাধনায় অংশ নেন।
আজকের দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটার কথা রয়েছে।
কে বা কারা এবং ঠিক কী নাশকতামূলক উদ্দেশ্যে এই টাইম বোমা ও পেট্রল আখড়াবাড়ির প্রাঙ্গণে রেখে গিয়েছিল,
তা উদঘাটনে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা বাহিনী। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ স্থানীয় উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।
অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর তল্লাশি ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
