ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনে এসে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেখুন বিস্তারিত খবর।
সংবাদ প্রতিবেদন
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধান বিরোধীদল কেবল অন্ধ বিরোধিতার নীতি বেছে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওসমানী উদ্যানে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ দিন প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং ‘ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন’ কাজ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। তবে পুরো অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল বর্তমান বিরোধী দলের অনুপস্থিতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া কড়া বার্তা। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তার একটি স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে সরকারপ্রধানের এই বক্তব্যে। দেশের গণতন্ত্র এবং জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় তিনি সবার ঐকমত্যের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন ও বিরোধী দলের বয়কট প্রসঙ্গে ক্ষোভ
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি জাতীয় ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু সরকারিভাবে আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও বিরোধীদলীয় নেতা বা তাদের শীর্ষস্থানীয় কোনো প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। এই অনুপস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বিরোধীদল মূলত চেতনাবশত জুলাইয়ের মহান আত্মত্যাগকে যথাযথভাবে ধারণ করতে পারছে না।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও বলেন যে, যদি বিরোধী দলের নীতিনির্ধারকদের সরকারের সঙ্গে এক মঞ্চে বসা নিয়ে কোনো দ্বিধা বা আপত্তি থাকে, তবে তারা সরাসরি শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গেও আসন গ্রহণ করতে পারতেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা সেটিও এড়িয়ে গেছেন। সরকারের মতে, এই ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার মাধ্যমে বিরোধীপক্ষ মূলত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহীদ পরিবারগুলোকেই পরোক্ষভাবে অবমূল্যায়ন করেছে।
গঠনমূলক বিরোধিতার আহ্বান ও পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি বর্জনের তাগিদ
রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও তা যেন দেশের স্বার্থের পরিপন্থী না হয়, সে বিষয়ে জোরালো বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইদানীং বিরোধীদল কেবল বিরোধিতার খাতিরেই সরকারের সমালোচনা করছে। পুরোনো সেই ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দেশ যদি পুনরায় ফিরে যায়, তবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থমকে যাবে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে গঠনমূলক সমালোচনা থাকার অধিকার রয়েছে, যা সরকারকে সঠিক পথে চালিত করতে সহায়তা করে।
তবে সরকারের বিরোধিতার নামে যদি এমন কোনো পথ উন্মুক্ত করা হয় যা স্বৈরাচারী শক্তির পুনর্বাসনের পথ প্রশস্ত করে, তবে তা হবে মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে সুসংহত করতে বদ্ধপরিকর। তাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জনগণের রায় এবং সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি
নির্বাচন এবং জনগণের আস্থার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান যে, বিশ্বজুড়ে যেভাবে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়,
এ দেশের মানুষও ঠিক একইভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
ঠিক তেমনিভাবে জনগণ নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীদের বিরোধী দলের আসনেও বসিয়েছে।
গণতন্ত্রের এই সৌন্দর্যকে সম্মান জানিয়ে সবাইকে যার যার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সংবিধান সংশোধন বা অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে বিরোধী দলের ভিন্নমত থাকতেই পারে।
তবে সেই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বা ফয়সালা করার জন্যই তো জনগণ উভয়পক্ষকে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত করে পাঠিয়েছে।
রাস্তাঘাট অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত না করার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে অনুষ্ঠিত এই জমকালো উদ্বোধনী ও সুধী সমাবেশে সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মঈন খান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। ঢাকা উত্তর ও
দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক যথাক্রমে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং আবদুস সালামসহ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা পুরো আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা নবনির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ঘুরে দেখেন এবং শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
