শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা উদযাপিত। রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন মণ্ডপে ভক্তদের ভিড়, নিরাপত্তা ও উৎসবের আনন্দ মুখর চারপাশ।
সংবাদ প্রতিবেদন
শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনন্দ এখন চরমে উঠেছে। উৎসবের তৃতীয় দিন পেরিয়ে আজ সোমবার মহাষ্টমী ও ঐতিহ্যবাহী কুমারী পূজা উদযাপিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপে ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল রোববার জোড়া সপ্তমীর দ্বিতীয় দিনের আনন্দ উপভোগ করতে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে মানুষ মণ্ডপে ভিড় জমান। সন্ধ্যার পরে রাজধানী জুড়েই উৎসবের এক দুর্দান্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, এবার সপ্তমী তিথি দুদিন ধরে পালিত হয়েছে। গত শনিবার প্রথম দিনের পর গতকাল রোববার সকালে যথাসময়ে দেবীর শুক্লা সপ্তমীবিহিত পূজা সম্পন্ন হয়। আজ সোমবার সকালে নির্দিষ্ট লগ্ন অনুযায়ী মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিমা দর্শন, উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি এবং সন্ধ্যা আরতির আলোয় চারপাশ আলোকিত হয়ে উঠেছে। তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি এই আয়োজনে যোগ করেছে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য।
মহাষ্টমীর আকর্ষণ ও কুমারী পূজার মহিমা
আজকের এই পবিত্র তিথিতে দেশজুড়ে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো কুমারী পূজা। রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠসহ নির্দিষ্ট কিছু মণ্ডপে এই বিশেষ আচারটি সম্পন্ন হচ্ছে। সনাতন শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট বয়সের একটি মেয়েকে মা দুর্গার জীবন্ত প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং কঠোর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পূজার আগপর্যন্ত কুমারী মেয়েটির পরিচয় গোপন রাখা হয়।
পঞ্জিকার নিয়ম অনুযায়ী আজ সন্ধ্যায় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধি পূজার নির্ধারিত সময়ে দেবীর চরণে বিশেষ নৈবেদ্য অর্পণ করা হয়। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসরণকারী মণ্ডপগুলোতে সময়ের সামান্য ভিন্নতা রয়েছে। ঢাকের বাদ্য, মন্ত্রপাঠ আর ধূপের গন্ধে চারপাশের বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছে। ভক্তরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অঞ্জলি গ্রহণ করছেন এবং পরিবারের মঙ্গল কামনা করছেন।
রাজধানীর মণ্ডপে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও ভিন্ন ভাবনা
রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে এবার নান্দনিক শিল্পশৈলীর ছোঁয়া লেগেছে। বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে গুলশান-বনানী
সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের আয়োজনটি সকলের নজর কেড়েছে। এই মণ্ডপের মূল ভাবনা নির্ধারণ করা হয়েছে জলজ থিমে।
জলকে সৃষ্টির মূল উৎস হিসেবে ফুটিয়ে তুলতে বাঁশ, পাট, বেত ও প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহার করা হয়েছে।
পদ্মফুলের আদলে তৈরি বিশাল কাঠামোর ঠিক মাঝখানে রয়েছে মায়ের প্রতিমা।
প্রখ্যাত স্থপতি ও শিল্পীদের যৌথ পরিকল্পনায় এই নান্দনিক শিল্পকর্মটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
বসুন্ধরা, বনানী, মৌচাক, রামপুরা ও রমনা এলাকার মণ্ডপগুলোতেও ছিল মানুষের দীর্ঘ সারি।
তরুণ-তরুণীরা প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিচ্ছেন।
মণ্ডপের রঙিন আলো এবং আলোকসজ্জা রাতের ঢাকাকে আরও সুন্দর করে তুলেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে সবাই উৎসব উপভোগ করছেন।
উৎসবের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবেশ
দুর্গোৎসবের এই দিনগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি বড় মণ্ডপে পর্যাপ্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন রয়েছে।
দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও প্রস্থান আলাদা করে জটলা এড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।
আয়োজকদের আশা, মহাষ্টমী ও নবমীর দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের এই স্রোত আরও বৃদ্ধি পাবে।
