পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্মোহ জীবনদর্শন ও ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন। মানুষের ভালোবাসাই তাঁর আসল শক্তি।
রাজনীতির দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে অবস্থান করেও যারা নিজেদের মোহের ঊর্ধ্বে রাখতে পারেন, ইতিহাসে তাদের নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নেতৃত্ব দেওয়া শেখ হাসিনার জীবনদর্শন এমনই এক অনন্য দৃষ্টান্ত। রেকর্ড সংখ্যক পাঁচবার সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও তিনি নিজের জন্য এক ইঞ্চি জমিও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেননি। তাঁর এই নির্মোহ সত্তা বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক বিরল ও অনুকরণীয় ইতিহাস হয়ে রয়েছে।
ক্ষমতার মোহের ঊর্ধ্বে এক জীবন
সাধারণত রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রটোকলের শীর্ষে পৌঁছানোর পর অনেকেই ব্যক্তিগত বিত্তবৈভবের পাহাড় গড়তে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু শেখ হাসিনার জীবন প্রমাণ করে যে প্রকৃত নেতৃত্ব কেবল ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন থাকে না। ইট-পাথরের কোনো রাজপ্রাসাদ তাঁর কাছে কখনোই জীবনের মূল লক্ষ্য ছিল না। বাংলার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের হৃদয়ই ছিল তাঁর আসল ঠিকানা। ব্যক্তিগত অর্জনের হিসাব-নিকাশ তাঁর কাছে সবসময়ই ছিল নিতান্ত তুচ্ছ। ক্ষমতার মসনদ ছেড়ে যখন তিনি সাধারণ মানুষের কাতারে আসেন, তখন তাঁর একমাত্র পুঁজি থাকে মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা ও নিখাদ বিশ্বাস।
প্রতিকূলতা ও মৃত্যুভয়কে জয় করার ইতিহাস
রাজনীতির বন্ধুর পথে তাঁকে বারবার ঘাতকচক্রের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বহুবার জীবননাশের উদ্দেশ্যে নৃশংস হামলা ও রক্তস্নাত পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ষড়যন্ত্রই তাঁকে তাঁর আদর্শ থেকে একচুলও নড়াতে পারেনি। গ্রেনেড হামলা কিংবা বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। মৃত্যুভয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি সবসময় বাংলার মানুষের মুক্তির লড়াইয়ে অবিচল থেকেছেন। একটি প্রদীপ্ত আলোকবর্তিকার মতো তিনি সংকটময় মুহূর্তেও জাতিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতন্ত্রের সংকট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি এক নতুন মোড় নিয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও অবৈধ সরকারের আমলে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চর্চা আজ চরম সংকটের মুখে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে দমনপীড়ন চলছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী মিথ্যা ও গায়েবি মামলার শিকার হয়ে কারাগারে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা আজ প্রহসনে পরিণত হয়েছে।
পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরে অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। খুন, ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা যেন নিত্যদিনের খবরে পরিণত হয়েছে। আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো আজ চরমভাবে বিপন্ন।
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ মানুষের হাহাকার ও আর্তনাদ চারপাশকে ভারী করে তুলেছে।
ডিসেম্বরে প্রত্যাবর্তনের প্রত্যয় ও জনমানুষের টান
দেশের এমন চরম দুর্দিন ও নৈরাজ্যপূর্ণ পরিস্থিতিতে দীর্ঘপ্রবাসীর জীবন তাঁকে আর স্থির থাকতে দেয়নি।
মানুষের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং লুণ্ঠিত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে তিনি অদম্য প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
আগামী ডিসেম্বর মাসেই তিনি স্বদেশে ফিরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রবাসের সমস্ত গণ্ডি পেরিয়ে বাংলার সাধারণ মানুষের টানে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করবে।
ব্যক্তিগত অর্জনের লোভ যাঁকে কখনোই স্পর্শ করতে পারেনি, তাঁর কাছে বাংলার মাটি ও আকাশই হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও বিশ্বস্ত আশ্রয়।
পাঁচবারের এই সফল রাষ্ট্রনায়কের সরল ও শেকড়সংলগ্ন জীবনদর্শন আমাদের বারবার এটিই মনে করিয়ে দেয়।
প্রকৃত শক্তি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বা ক্ষমতার মসনদে থাকে না; বরং তা লুকিয়ে থাকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ের ভালোবাসায়।
সমস্ত প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্রকে পায়ে দিসে তাঁর এই ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক ফিরে আসাই নয়,
এটি বাংলার আকাশ ও মাটির সাথে তাঁর এক অবিনশ্বর সম্পর্কের চিরন্তন জয়গান।
