যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। মার্কিন হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুত হতে বলা হয়েছে আরব দেশকে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে তেহরানের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগের নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র রাষ্ট্রগুলোকে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের গোপন চিঠি ও কূটনৈতিক প্রয়াস
পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং নতুন কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়াতে মাঠে নেমেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের কাছে একটি বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশেই এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মূলত স্থগিত থাকা শান্তি আলোচনা পুনরায় সচল করার একটি রূপরেখা তৈরিই এই চিঠির মূল উদ্দেশ্য।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক অভিযানের আশঙ্কা
কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি কঠোর সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতিও গুটিয়ে রাখছে ওয়াশিংটন। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক পরপরই ইরানের ওপর একটি বড় আঘাত হানার পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা হবে স্বল্পস্থায়ী অথচ অত্যন্ত তীব্র প্রকৃতির একটি সামরিক অভিযান। তবে এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত কোনো সবুজ সংকেত দেননি। সম্ভাব্য এই ঝড়ের আভাস পেয়ে উপসাগরীয় এলাকার বেশ কিছু প্রভাবশালী আরব দেশকে আগাম সতর্ক থাকার নির্দেশ পাঠিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
তেহরানের কঠোর হুঁশিয়ারি ও পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি
ওয়াশিংটনের এমন দ্বিমুখী নীতিতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নয় তেহরান। উল্টো কঠোর ভাষায় মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যদি নতুন করে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়, তবে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
বিশেষ করে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
আমেরিকার প্রধান ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সংক্রান্ত সংবেদনশীল স্থাপনাগুলো তেহরানের প্রধান টার্গেটে থাকতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক কূটনীতি ও তেলের বাজারের ওপর প্রভাব
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই চলমান স্নায়ুযুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।
একদিকে ওয়াশিংটন যেমন কূটনৈতিক চ্যানেলে সমঝোতার রাস্তা খুঁজছে, অন্যদিকে কঠোর সামরিক শক্তির মহড়াও চালিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীসহ কৌশলগত সামুদ্রিক পথগুলোতে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপত্তি ঘটার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
আগামী কয়েকদিনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্য কি শান্তি আলোচনার দিকে ঝুঁকবে, নাকি আরও এক দফা বিধ্বংসী যুদ্ধের সাক্ষী হবে।
