ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের লড়াইয়ে চীন ও ভারতের কৌশলগত অর্থনৈতিক চুক্তি। মিয়ানমারের বিরল খনিজ নিয়ন্ত্রণ এবং কোয়াড জোটের ওপর ওয়াশিংটনের নতুন চাপ।
বিশ শতকের একক পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বৈশ্বিক ভূরাজনীতির সবচেয়ে উত্তপ্ত অঞ্চল ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ (Indো-Pacific)-এ নিজের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনকে এই অঞ্চলে রুখে দেওয়া এবং ওয়াশিংটনের নিজস্ব কৌশলগত এজেন্ডা বাস্তবায়নই এখন মার্কিন থিঙ্কট্যাঙ্কগুলোর প্রধান লক্ষ্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ার দুই প্রধান শক্তি—চীন ও ভারতের দরবারে মার্কিন কূটনীতিকদের দফায় দফায় সফর এবং নেপথ্যের আলোচনাগুলো প্রমাণ করে যে, এশীয় পরাশক্তিগুলো এখন আর ওয়াশিংটনের পাতা ফাঁদে অন্ধভাবে পা দিতে রাজি নয়।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আরিফ খানের গভীর পর্যবেক্ষণ ও সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে প্রথমে বেইজিং এবং পরবর্তীতে দিল্লির সাথে বড় ধরনের কৌশলগত বোঝাপড়ার চেষ্টা চালায়। তবে চীন ও ভারত—উভয় দেশই নিজেদের জাতীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে কেবল নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক লেনদেনে সীমাবদ্ধ থেকেছে।
তারা মার্কিনীদের কোনো ধরনের ফাঁদ বা আঞ্চলিক সামরিক ব্লকের দীর্ঘমেয়াদি শর্তে নিজেদের জড়ায়নি।
বেইজিংয়ের চতুর কূটনীতি
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজের আধিপত্যের পালে হাওয়া দিতে ওয়াশিংটন প্রথম চালটি চেলেছিল চীনের বিরুদ্ধে।
মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা চেয়েছিলেন বেইজিংকে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বা কৌশলগত চুক্তির আওতায় এনে তাদের প্রভাবকে সীমিত করতে।
কিন্তু চতুর ও দূরদর্শী চীনা কূটনীতি মার্কিনীদের সেই রাজনৈতিক জাল ছিন্ন করে পুরো বিষয়টিকে একটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক লেনদেনে রূপান্তর করেছে।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার প্রধান অর্থনৈতিক স্তম্ভসমূহ
├── ১. মার্কিন অর্থনীতিতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (Plaza Accord স্টাইল)
├── ২. মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভকে সুবিধা দিতে সোনার দামের পুনর্মূল্যায়ন
├── ৩. মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ২০০টি উড়োজাহাজ ক্রয়
└── ৪. টেসলা গিগাফ্যাক্টরিগুলোকে কর রেয়াত ও বিশেষ ভর্তুকি প্রদান
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীন ১৯৮৫ সালের ঐতিহাসিক ‘প্লাজা অ্যাকর্ড’-এর আদলে মার্কিন অর্থনীতিতে সরাসরি ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এর পাশাপাশি আমেরিকান কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-কে বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি ও সুবিধা দিতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্যের পুনর্মূল্যায়নের বিষয়ে সম্মত হয়েছে বেইজিং।
একই সাথে মার্কিন বিমান উৎপাদনকারী জায়ান্ট ‘বোয়িং’ (Boeing) থেকে ২০০টি অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী বিমান কেনা এবং চীনের মাটিতে অবস্থিত ইলন মাস্কের ‘টেসলা গিগাফ্যাক্টরি’গুলোকে বিশেষ কর ভর্তুকি ও প্রণোদনা দেওয়ার পথ পরিষ্কার করেছে চীন।
তবে এই বিশাল অর্থনৈতিক প্যাকেজের বিনিময়ে বেইজিং ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে
—আঞ্চলিক সহযোগিতা, সামরিক জোট বা ইন্দো-প্যাসিফিকে মার্কিন এজেন্ডা বাস্তবায়নের মতো কোনো ভূরাজনৈতিক চুক্তিতে তারা বিন্দুমাত্র অংশ নেবে না।
চীন-আমেরিকা অর্থনৈতিক সমীকরণ এবং প্লাজা অ্যাকর্ড (Plaza Accord) প্রসঙ্গ
এই ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে চীন মূলত ট্যাক্স বা কর মওকুফ পাবে এবং আমেরিকা ও তাদের বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর (Friend-shore) ভোক্তা বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার লাভ করবে। তবে, চীন এই বিশাল অর্থসংস্থান করবে তাদের কাছে থাকা সোনার দামের পুনর্মূল্যায়ন (Gold Revaluation) করার মাধ্যমে। এই সোনা তারা পরোক্ষভাবে সুইজারল্যান্ড বা দুবাইতে থাকা আমেরিকান বিক্রেতাদের কাছ থেকে কিনছে।
চীন এখানে ১৯৮০-এর দশকের জাপানি স্টাইলের ‘প্লাজা অ্যাকর্ড’ চুক্তির পথে হাঁটছে না।
সেই সময় জাপান ডলারের বিপরীতে তাদের নিজস্ব মুদ্রা ইয়েনের মান অতিরিক্ত বাড়িয়ে (Revaluate) ফেলেছিল,
যা পরবর্তীতে জাপানের সম্পত্তি (Property) এবং শেয়ার বাজারকে ধ্বংস করে দেয় এবং জাপানি মুদ্রার প্রকৃত মূল্য হারিয়ে যায়।
চীন এই ভুলটি করবে না, কারণ ১৯৮০-এর দশকের জাপানের মতো চীন কিন্তু সুরক্ষার জন্য আমেরিকান সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভরশীল নয়।
দিল্লির বাস্তবমুখী অবস্থান: ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও তেলের চুক্তি, কিন্তু জোটে ‘না’
চীনের কাছ থেকে সামরিক ও কৌশলগত নিশ্চয়তা পেতে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন প্রশাসন এরপর তাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ ঘোরায় দক্ষিণ এশিয়ার পাওয়ার হাউস ভারতের দিকে।
ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল, চীনের কাউন্টার-ব্যালেন্স বা প্রতিসাম্য হিসেবে ভারতকে ব্যবহার করে ইন্দো-প্যাসিফিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ মজবুত করা যাবে।
কিন্তু বর্তমান নয়া দিল্লির সাউথ ব্লকের নীতিনির্ধারকেরাও বেইজিংয়ের মতোই অত্যন্ত বাস্তবমুখী ও স্বার্থ-সচেতন কূটনীতির পরিচয় দিয়েছেন।
প্রফেসর ড. আরিফ খানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী,
ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ধরনের আঞ্চলিক সামরিক বা ভূকৌশলগত গভীর প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হয়নি।
পরিবর্তে তারা ওয়াশিংটনের সাথে একটি বিশাল অর্থনৈতিক ও সামরিক বাণিজ্য চুক্তি করেছে।
এই চুক্তির আওতায় ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (Crude Oil) এবং অত্যাধুনিক সামরিক অস্ত্রশস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের বিষয়ে সম্মতি জ্ঞাপন করেছে।
বিগত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে চতুষ্পাক্ষিক নিরাপত্তা সংলাপ বা ‘কোয়াড’ (Quad)-এর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও,
ভারত আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমেরিকার কোনো প্রক্সি যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে স্পষ্ট অনীহা দেখিয়েছে।
ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে,
তারা নিজেদের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন (Strategic Autonomy) বিসর্জন দিয়ে কোনো একক পরাশক্তির অক্ষের অংশ হবে না।
মার্কিনীদের আশ্বাসের বাণী ও ভারতের ‘অপেক্ষা করো এবং দেখ’ নীতি
ভারতের এই রক্ষণাত্মক ও স্বাধীন অবস্থানের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন কিছুটা নমনীয় কৌশল অবলম্বন করতে বাধ্য হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে
—ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো বহিরাগত আগ্রাসন মোকাবেলায় ভারতকে মার্কিন প্রশাসন পূর্ণ সমর্থন ও লজিস্টিক সহায়তা দেবে।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই মুখরোচক আশ্বাসের বাণীকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে ভারতের আরও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন।
অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতি ও ‘ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলার’ ইতিহাসকে নয়া দিল্লি ভুলে যায়নি।
ফলে মার্কিনীদের কথায় চিঁড়ে ভিজবে না, বরং ওয়াশিংটনকে তার সততা প্রমাণ করতে হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি বাস্তবমুখী, নির্ভরযোগ্য এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
তত দিন পর্যন্ত ভারত ‘অপেক্ষা করো এবং দেখ’ (Wait and Watch) নীতিতেই অটল থাকবে।
মিয়ানমারের বিরল খনিজ: ওয়াশিংটনের হাই-টেক সাপ্লাই চেইনের মূল চালিকাশক্তি
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চলমান এই মহাসমর কেবল সমুদ্রসীমার নিয়ন্ত্রণ বা ভৌগোলিক আধিপত্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়;
এর পেছনে রয়েছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বিশ্বের মূল চাবিকাঠি—‘রেয়ার আর্থ মেটেরিয়ালস’ বা বিরল খনিজ উপাদান।
আর এই খনিজের এক বিশাল ও সমৃদ্ধ খনি লুকিয়ে আছে গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশ মিয়ানমারের মাটির নিচে।
মিয়ানমারের রেয়ার আর্থ খনিজের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরশীলতা
├── সামরিক প্রযুক্তি ➔ যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র গাইডেন্স ও রাডার সিস্টেম
├── ফিন-টেক (Fin-tech) ➔ গ্লোবাল ট্রানজেকশন সার্ভার ও সিকিউরিটি চিপস
└── হাই-টেক সাপ্লাই চেইন ➔ সেমিকন্ডাক্টর, সুপারকম্পিউটার ও বৈদ্যুতিক যান (EV)
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই মিয়ানমারের এই বিরল খনিজের ওপর থেকে নিজেদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব হারাতে প্রস্তুত নয়।
কারণ, আমেরিকান জ্বালানি নিরাপত্তা, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি উৎপাদন, আন্তর্জাতিক ফিন-টেক (Fin-tech) নেটওয়ার্ক এবং সামগ্রিক হাই-টেক সাপ্লাই চেইনের (High-tech Supply Chain) অস্তিত্ব এই রেয়ার আর্থ মেটেরিয়ালসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।
স্মার্টফোন থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমানের স্টেলথ প্রযুক্তি—সব জায়গাতেই এই খনিজ অপরিহার্য।
মিয়ানমার গেটওয়ে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক যুদ্ধবিরতি (Truce)
আমেরিকা বর্তমানে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং বাংলাদেশের ত্রিমুখী অক্ষকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ‘মিয়ানমার গেটওয়ে’ বা প্রবেশদ্বারটি পাওয়ার চেষ্টা করছে।
এই প্রক্রিয়ায় তারা চীনের সাথে একটি ভূ-কৌশলগত যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার (Geo-strategical Truce) জন্য প্রস্তুত ছিল।
কিন্তু, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনের সাথে এই ভূ-রাজনৈতিক সমঝোতা করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের সামনে একমাত্র বিকল্প থাকবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত জোট ‘কোয়াড’ (Quad)-কে সামনে ঠেলে দেওয়া এবং এর সহযোগী দেশ—ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মাধ্যমে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা।
জ্বালানি রাজনীতি: ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে দূরে সরানোর চেষ্টা
এই মুহূর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে রাশিয়ার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে আমেরিকান জ্বালানি উৎপাদকদের দিকে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে।
যদিও আমেরিকান খনিজ তেল বা ফসিল ফুয়েল শোধনাগারগুলোর উৎপাদন খরচ প্রতি ব্যারেলে প্রায় ৫০ ডলার, যেখানে আরবীয় তেল শোধনাগারগুলোর খরচ প্রতি ব্যারেলে মাত্র ৪ থেকে ৫ ডলার। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হলো, হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে এখন জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতি ব্যারেলে প্রায় ১৩৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
উচ্চ মূল্যের এই বাস্তবতার কারণে আমেরিকান শোধনাগারগুলো এখন বেশি বেশি তেল উৎপাদন করছে, কারণ এটি এখন অত্যন্ত লাভজনক।
আর এই সুযোগে তারা ভারত এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে আমেরিকান ফসিল ফুয়েলের ওপর নির্ভরশীল করে তুলতে চাইছে।
দ্বিপাক্ষিক (Bi-polar) বিশ্বব্যবস্থা বনাম বহুপাক্ষিক (Multi-polar) বিশ্বব্যবস্থা
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি বহুপাক্ষিক (Multi-polar) বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তে একটি দ্বিপাক্ষিক বা দ্বিমুখী (Bi-polar) বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
এই লক্ষ্যে তারা চীনের সাথে আলোচনা এবং ভূ-রাজনৈতিক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখছে, যাতে সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলের মতো তারা নিজেদের বৈশ্বিক আধিপত্য ধরে রাখতে পারে।
আমেরিকার মূল পরিকল্পনা হলো—আপাতত সমঝোতা বজায় রাখা এবং পরবর্তীতে ‘কোয়াড’ (Quad) তথা ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের মাধ্যমে চীনকে একাই মোকাবিলা করা;
ঠিক যেভাবে ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে তারা চীনের সাথে জোট বেঁধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলা করেছিল।
পাকিস্তান-চীন-তুরস্ক ত্রিমুখী অক্ষের হুমকি বনাম কোয়াডের ওপর মার্কিন চাপ
ওয়াশিংটনের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এশিয়ার বুকে গড়ে ওঠা একটি নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণ।
পাকিস্তান, চীন এবং তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ‘ত্রিমুখী অক্ষ’ বর্তমানে মিয়ানমারসহ সামগ্রিক দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মার্কিন প্রভাবকে সম্পূর্ণ হটিয়ে দিতে সক্রিয় রয়েছে।
এই শক্তিশালী মুসলিম-কমিউনিস্ট ব্লেন্ডের অক্ষটি যদি মিয়ানমারের বিরল খনিজের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়, তবে বৈশ্বিক হাই-টেক শিল্পে আমেরিকার পতন অনিবার্য।
“মিয়ানমারের খনিজ সম্পদ যদি পাকিস্তান-চীন-তুরস্ক অক্ষের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে ওয়াশিংটনের গ্লোবাল টেকনোলজি লিডারশিপ ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।” – ড. আরিফ খান
এই সম্ভাব্য পরাজয় এড়াতে মার্কিন প্রশাসন এখন ‘কোয়াড’ (Quad) জোটের বাকি সদস্যদের
—বিশেষ করে ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে তীব্র কূটনৈতিক চাপ দেওয়ার কৌশল নিয়েছে।
ওয়াশিংটন চায়, কোয়াড কেবল একটি অনানুষ্ঠানিক সংলাপ ফোরাম হিসেবে না থেকে, মিয়ানমারের খনিজ করিডোর রক্ষা এবং এই অঞ্চলের সামুদ্রিক রুটগুলো মার্কিন স্বার্থে সুরক্ষিত রাখতে একটি সক্রিয় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঢাল হিসেবে কাজ করুক।
বিশ্লেষক: অধ্যাপক ড. আরিফ খান, অর্থনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও রণকৌশল বিশেষজ্ঞ।
