বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়ার নয়া পাকিস্তান নীতি, ফিয়াট কারেন্সির পতন, ড্রোন ও সাইবার যুদ্ধ এবং মার্কিন কৌশলগত অক্ষ নিয়ে অধ্যাপক ড. আরিফ খানের বিশেষ ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষন।
অধ্যাপক ড. আরিফ খান:
একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমীকরণ এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর যে প্রাতিষ্ঠানিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যে পরিচালিত হচ্ছিল, তা এখন বহুমুখী শক্তির উত্থান এবং নতুন অর্থনৈতিক অক্ষ গঠনের ফলে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই নতুন মেরুকরণ কেবল সামরিক শক্তির মহড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এর গভীরতা ছড়িয়ে পড়েছে ডিজিটাল মুদ্রা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মহাকাশ প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত। বিখ্যাত ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আরিফ খানের সাম্প্রতিক এক তাত্ত্বিক নিবন্ধে এই উদীয়মান বিশ্ব ব্যবস্থার (Global Order) ভেতরের সূক্ষ্ম ও চাঞ্চল্যকর সমীকরণগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উন্মোচিত হয়েছে।
ক্রেমলিনের পাকিস্তান নীতি: ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের চেনা ছকে ফাটল
প্রফেসর ডক্টর আরিফ খানের বিশ্লেষণের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা মানচিত্রে রাশিয়ার নতুন কৌশলগত অবস্থান। দীর্ঘকাল ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, পরীক্ষিত এবং বিশ্বস্ত সামরিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হতো রাশিয়াকে (সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন)। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনীতির বাস্তবতায় সেই চিরাচরিত সম্পর্কে বড় ধরণের ফাটল বা পরিবর্তনের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। মস্কো এখন অভাবনীয়ভাবে ইসলামাবাদের দিকে ঝুঁকছে।

রাশিয়া কেবল পাকিস্তানের সাথে সাধারণ কূটনৈতিক সম্পর্কই বাড়াচ্ছে না, বরং তারা ইসলামাবাদের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আধুনিক ‘জেট ইঞ্জিনের প্রযুক্তি’ (Jet Engine Technology) হস্তান্তর ও বিক্রি করতে শুরু করেছে। ভারতের দীর্ঘদিনের এই পরম মিত্রের কাছ থেকে এমন সামরিক পদক্ষেপ নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
কেন এই অক্ষ পরিবর্তন? নতুন দিল্লির মার্কিন ও ইসরায়েল ঘেঁষা নীতি
অধ্যাপক ড. আরিফ খানের মতে, রাশিয়ার এই কঠোর অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে ভারতের নিজস্ব বৈশ্বিক নীতিই প্রধানত দায়ী।
ক্রেমলিনের কৌশলগত নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন যে, ভারত এখন তার ঐতিহ্যবাহী ‘জোট-নিরপেক্ষ’ অবস্থান থেকে অনেকখানি দূরে সরে এসেছে।
নতুন দিল্লি এখন ক্রমান্বয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের অক্ষ বা ব্লকের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে একদিকে যখন রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার (BRICS তথা গ্লোবাল সাউথ) মতো দেশগুলো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বহুমুখী অর্থনৈতিক ব্লক বা মেরু গড়ে তুলতে সক্রিয়, তখন ভারতের ওয়াশিংটন ঘেঁষা নীতি মস্কোকে বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করেছে। ফলে ভারতকে চাপে রাখতে এবং এই অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে রাশিয়া এখন পাকিস্তানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
তুরস্কের মধ্যস্থতা এবং দরকষাকষির ঘুঁটি হিসেবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান
এই জটিল সমীকরণের মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান শক্তি তুরস্ক এক অনন্য ও চতুর কূটনৈতিক খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ড. খানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আঙ্কারা একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর (NATO) সদস্য,
আবার অন্যদিকে তারা রাশিয়া-চীন কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত নিরাপত্তা অক্ষের সাথেও গভীর বোঝাপড়া বজায় রাখছে।
তুরস্ক এই দুই বিপরীতমুখী শিবিরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে নিজের ভূ-রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দুই মুসলিম প্রধান দেশ—পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকে ‘বারগেইনিং চিপস’ বা দরকষাকষির ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে। এই দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গতিপথ নিয়ন্ত্রণ বা মধ্যস্থতা করার মাধ্যমে তুরস্ক বিশ্বমঞ্চে নিজের কূটনৈতিক দর কষাকষির ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে নিচ্ছে।
ট্রাম্পের ‘কৌশলগত যুদ্ধবিরতি’ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাল্টা ব্লক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং তাদের বৈশ্বিক কৌশলের ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এক ভিন্নধর্মী চাল চালছে।
ট্রাম্প প্রশাসন আপাতদৃষ্টিতে চীন ও রাশিয়ার সাথে এক ধরণের ভূ-রাজনৈতিক যুদ্ধবিরতি বা আপস (Truce) বজায় রাখছে।
কিন্তু এই আপাত শান্ত নীতির পেছনে রয়েছে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক এজেন্ডা।
মার্কিন চরম ডানপন্থী কৌশলের রূপরেখা:
├── লক্ষ্য: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং যুক্তরাজ্যকে (UK) অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করা
├── মাধ্যম: মেটা (META) ও মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ
└── হাতিয়ার: ইউরোপের অভ্যন্তরে কট্টর ডানপন্থী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী শক্তির উত্থান ঘটানো
আমেরিকা মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং যুক্তরাজ্যকে (UK) বৈশ্বিক বাজার ও রাজনীতিতে দুর্বল ও খণ্ডিত করতে চায়।
আর এই উদ্দেশ্যে তারা মেটা (META) সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও প্রযুক্তি খাতের প্রভাবপুষ্ট চরম ডানপন্থী উগ্রবাদকে ইউরোপের মাটিতে সুকৌশলে ছড়িয়ে দিচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্বের এই অভ্যন্তরীণ ফাটল বুঝতে পেরেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বের অন্যান্য ‘মধ্যম শক্তির’ (Middle Power) দেশগুলো মার্কিন নির্ভরতা কমিয়ে একটি নতুন বৈশ্বিক ব্যবস্থার জন্য নিজস্ব স্বাধীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্লক গঠন করতে শুরু করেছে।
জায়নবাদী ফিয়াট কারেন্সির পতন এবং বাস্তব সম্পদের উত্থান
অধ্যাপক ড. আরিফ খান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোর এক বড় ধরণের আসন্ন ধসের দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে জায়নবাদী ও পশ্চিমা আর্থিক কর্পোরেশনগুলোর ‘ফিয়াট কারেন্সি’ (Fiat Currency – যা কোনো বাস্তব সম্পদ বা সোনার অবয়ব ছাড়া কেবল সরকারি আদেশে চলে) এবং সুদের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে।
কিন্তু এই ‘কাগুজে মুদ্রা’ বা জায়নবাদী ফিয়াট অর্থনীতি এখন বিশ্ব ব্যবস্থার শীর্ষ স্তরের (Hierarchy) নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।
এর স্থান দখল করছে বাস্তব, দৃশ্যমান ও কঠিন সম্পদ—যার মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল, সোনা ও বিভিন্ন বৈশ্বিক পণ্য (Commodities)।
কাগজের নোটের চেয়ে খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদের এই আধিপত্য বিশ্ব অর্থায়নের কেন্দ্রবিন্দুকে বদলে দিচ্ছে।
টেক জায়ান্টদের হাতে বন্ড এবং স্থিতিশীল ডিজিটাল মুদ্রার যুগ
এই মুদ্রা সংকটের মাঝেই আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (Fed) এক নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে।
তারা সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ কোম্পানি বা টেক জায়ান্টদের (যেমন- গুগল, মেটা, অ্যাপল) কাছে বিপুল পরিমাণে মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিক্রি করছে।
এই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সাধারণ ফিয়াট মুদ্রার ওপর ভরসা না রেখে, নিজেদের বন্ড ব্যাকড ‘স্থিতিশীল ডিজিটাল মুদ্রা’ (Stable Digital Currencies) বা ক্রিপ্টো-টোকেন তৈরির উদ্দেশ্যে এই বন্ডগুলো কিনে নিজেদের ভল্ট ভারী করছে।
এর ফলে অদূর ভবিষ্যতে প্রথাগত ব্যাংকিং ব্যবস্থার চেয়ে এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোই বিশ্বের মূল আর্থিক লেনদেনের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠবে।
ইসরায়েলের সামরিক ও প্রযুক্তি খাতের আসন্ন তহবিল সংকট
এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক ধাক্কাটি লাগতে চলেছে ইসরায়েলের ওপর।
ইহুদি রাষ্ট্রটির মূল শক্তি হলো তাদের উচ্চ প্রযুক্তির গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) এবং তাদের অপরাজেয় সামরিক-নিরাপত্তা শিল্প।
এতকাল এই শিল্পে অর্থায়নের মূল উৎস ছিল পশ্চিমা ও জায়নবাদী ফিয়াট ভিত্তিক বড় বড় কর্পোরেশনগুলো।
যেহেতু এই কাগুজে ও ফিয়াট অর্থনীতির ভিত্তি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হচ্ছে এবং বিশ্ব কঠিন সম্পদের দিকে ঝুঁকছে, তাই আজ হোক বা কাল, ইসরায়েলের এই সামরিক গবেষণা খাত গভীর অর্থ বা ফান্ডিং সংকটের মুখোমুখি হবে।
জায়নবাদী কর্পোরেশনগুলোর তহবিল জোগানোর ক্ষমতা কমে এলে তেল আবিবের সামরিক ও গোয়েন্দা শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রের রূপরেখা: সাইবার, সস্তা ড্রোন এবং মহাকাশ
প্রফেসর ডক্টর আরিফ খানের কলামের শেষ অংশটি ভবিষ্যৎ যুদ্ধের এক রোমাঞ্চকর ও বাস্তবসম্মত রূপরেখা তুলে ধরে।
আগামী দিনের বিশ্ব ব্যবস্থায় সামরিক এবং নিরাপত্তা গোয়েন্দা যুদ্ধগুলো আর প্রথাগত ট্যাংক, যুদ্ধবিমান বা পদাতিক বাহিনী দিয়ে লড়া হবে না।
ভবিষ্যতের সংঘাতের মূল ক্ষেত্র হবে তিনটি:
১. সাইবার যুদ্ধ (Cyber Warfare): শত্রু দেশের সম্পূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও ব্যাংক ব্যবস্থা হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অচল করে দেওয়া।
২. একবার ব্যবহারযোগ্য সস্তা ড্রোন (Disposable Drones): সহজে ও কম খরচে বিপুল পরিমাণ ড্রোন তৈরি করে শত্রু সীমানায় অনবরত আঘাত হানা।
এর মূল উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যয়বহুল মিসাইলগুলো নিঃশেষ করে তাদের আর্থিকভাবে দেউলিয়া করে দেওয়া।
৩. মহাকাশ যুদ্ধ (Space Warfare): স্যাটেলাইট ধ্বংস বা বিকল করার মাধ্যমে শত্রু দেশের যোগাযোগ ও জিপিএস নেটওয়ার্ক অন্ধ করে দেওয়া।
ভারী অস্ত্রের ভবিষ্যৎ: প্রথাগত ভারী ও ব্যয়বহুল অস্ত্রশস্ত্রগুলো আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে বড় ধরণের অর্থনৈতিক শোষণের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া এই ভারী অস্ত্রের ব্যবহারে বেসামরিক নাগরিকদের জীবনে যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি (Collateral Damages) হয়, তা আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে তীব্র নেতিবাচক জনমত তৈরি হয়, যা যেকোনো দেশের সরকারের জন্য এক বিরাট রাজনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
এক নতুন পৃথিবীর উদয়
পরিশেষে বলা যায়, প্রফেসর ডক্টর আরিফ খানের এই গভীর ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণটি স্পষ্ট করে দেয় যে, আমরা একটি অত্যন্ত অস্থির কিন্তু রূপান্তরকামী সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। রাশিয়ার পাকিস্তান নীতি যেমন দক্ষিণ এশিয়ার পুরনো সামরিক সমীকরণকে ভেঙে দিচ্ছে, তেমনি ফিয়াট কারেন্সির পতন এবং ডিজিটাল ও কঠিন সম্পদের উত্থান বিশ্ব অর্থনীতিকে নতুন রূপ দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও সাইবার প্রযুক্তির আধিপত্য প্রথাগত সামরিক শক্তির দাদাগিরি চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে।
এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে কোনো পরাশক্তির অন্ধ ঘুঁটি না হয়ে,
অত্যন্ত চতুর ও সুদূরপ্রসারী স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থ টিকিয়ে রাখতে হবে।
