জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্যের অভিযোগে জান্নাতুল পিয়া, শামীমা তুষ্টিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।
জান্নাতুল পিয়া-তুষ্টিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
বিনোদন প্রতিবেদক | অনলাইন ডেস্ক
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিভিশন টকশোতে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল পিয়া এবং অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি করেছে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, লিখিত আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
অভিযোগে মোট ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—
- মডেল ও আইনজীবী জান্নাতুল পিয়া
- অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি
- চ্যানেল আইয়ের উপস্থাপিকা সোমা ইসলাম
- সাংবাদিক আনিস আলমগীর
- সাবেক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মোমিন মেহেদী
- মারিয়া কিসপট্টা
অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং টেলিভিশনের টকশোতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের নিয়ে আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর ও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
কী অভিযোগ করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম
রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্য মিল্লাত হোসেন জানান, গত ৩ জুলাই বিকেলে শাহবাগের হাদী চত্বরে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের বিভিন্ন ভিডিও ও বক্তব্য তাদের নজরে আসে। পরে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানোর বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, থানায় জমা দেওয়া অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না বা কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
তদন্তের পরই নির্ধারিত হবে পরবর্তী পদক্ষেপ
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়া মানেই অভিযোগে উল্লিখিত বিষয়গুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমনটি নয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও তদন্ত পরিচালনা করে।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিবেচনার পর প্রয়োজনীয় আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ কারণে এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত বা আদালতের রায় হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা
ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন,
আবার কেউ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি সামনে এনেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল বিষয়ে অভিযোগ ওঠার পর দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তই প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এতে যেমন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, তেমনি জনমনের বিভ্রান্তিও দূর হবে।
