কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ইমাম হোসেন বাচ্চুর মৃত্যুকে ঘিরে নির্যাতনের অভিযোগ স্বজনদের। জেল কর্তৃপক্ষ বলছে অসুস্থতায় মৃত্যু।
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ইমাম হোসেন বাচ্চুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তার পরিবার, স্বজন এবং রাজনৈতিক সহকর্মীরা এই মৃত্যুকে স্বাভাবিক হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত নির্যাতনের ফল এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
সকালে অসুস্থ হওয়ার দাবি জেল কর্তৃপক্ষের
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন জানান, শনিবার (৩১ মে) সকালে কারাগারের ভেতরে ইমাম হোসেন বাচ্চু গুরুতর অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জেল প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, বাচ্চু বুকের ব্যথা অনুভব করার পরই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যা
নিহত ইমাম হোসেন বাচ্চুর পরিবার ও স্বজনরা দাবি করেছেন, তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি “ঠান্ডা মাথায় হত্যা” এবং ঘটনার পেছনে নির্যাতনের বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর থেকে বাচ্চু বিভিন্ন ধরনের চাপ ও নির্যাতনের শিকার ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় তারা বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আদালত প্রাঙ্গনের ঘটনার প্রসঙ্গ
আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, এর আগে আদালত প্রাঙ্গনে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিচারকের এজলাসের সামনে ইমাম হোসেন বাচ্চুর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাদের অভিযোগ, ওই সময় তাকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিল।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পরও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এ কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে
বলে তারা অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কেন কারাগারে ছিলেন বাচ্চু?
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইমাম হোসেন বাচ্চুকে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরে গত ৩০ মার্চ আদালতের নির্দেশে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম চলমান ছিল।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ঘটনার পর থেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। পরিবার, স্বজন এবং রাজনৈতিক সহকর্মীরা দাবি করেছেন,
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ এবং বিচার বিভাগীয় বা স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে জেল প্রশাসন বলছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ফলে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি তদন্তের ফলাফলই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
