জাতীয় সংসদে নৌ-পুলিশের দাবি ঘিরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর ‘আমার কাছে পুলিশ নেই, মুরগি আছে’ মন্তব্যে হাসির রোল পড়ে।
‘আমার কাছে পুলিশ নেই, মুরগি আছে’—সংসদে মন্ত্রীর মন্তব্যে হাসির রোল
অনলাইন ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৬
জাতীয় সংসদে নৌ-পুলিশের থানা বা ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি ঘিরে ব্যতিক্রমী এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন নৌপথে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে নৌ-পুলিশের থানা বা ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানালে সংসদ কক্ষে হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়।
জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, “পুলিশ তো আমার হাতে নেই। তবে আমার কাছে মুরগি আছে।” তার এই মন্তব্যে পুরো সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে।
কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত?
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে খোকসা পর্যন্ত প্রায় ৬০-৬৫ কিলোমিটার নদীপথে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি তুলে ধরেন সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।
তিনি বলেন, ওই নদীপথটি পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা নৌ-ফাঁড়ির আওতায় পরিচালিত হওয়ায় এলাকায় অপরাধ দমনে সমস্যা হচ্ছে। তাই নদীপথে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও গোলাগুলি নিয়ন্ত্রণে একটি নৌ-থানা বা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
স্পিকারের প্রশ্নে তৈরি হয় হাস্যরস
সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম জানতে চান, নৌ-পুলিশ স্থাপনের বিষয়টি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে কেন উত্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নৌ-পুলিশ তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন।
ফরিদা ইয়াসমিন একই দাবি পুনরায় জানালে স্পিকার রসিকতার সুরে মন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “আপনার আন্ডারে থানা-পুলিশ কিছু আছে কি-না, উত্তর দিন।”
‘আমার কাছে পুলিশ নেই, মুরগি আছে’
স্পিকারের মন্তব্যের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হেসে বলেন, “পুলিশ তো আমার হাতে নেই। তবে আমার কাছে মুরগি আছে।”
তিনি আরও বলেন, যদি ওই এলাকায় তার মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত জলাশয়ের মাছ কেউ অবৈধভাবে ধরে, তাহলে সেই সূত্র ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে
পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করতে পারেন। এর বাইরে নৌ-পুলিশ স্থাপনের বিষয়ে তার মন্ত্রণালয়ের কোনো এখতিয়ার নেই।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যে সংসদ কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে।
স্পিকারের পরামর্শ
আলোচনা শেষে স্পিকার ফরিদা ইয়াসমিনকে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে উত্থাপনের পরামর্শ দেন।
কারণ নৌ-পুলিশ পরিচালনা ও নতুন থানা বা ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতিগত ও প্রশাসনিক এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে।
সংসদে আলোচনার তাৎপর্য
ঘটনাটি মূলত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও এখতিয়ার সম্পর্কিত একটি ভুল বোঝাবুঝি থেকে সৃষ্টি হলেও
মন্ত্রীর তাৎক্ষণিক রসিকতাপূর্ণ জবাব সংসদে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে,
বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও কার্যপরিধি পৃথক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সঠিক মন্ত্রণালয়ের কাছেই দাবি বা প্রস্তাব উত্থাপন করা প্রয়োজন।
