কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ হাওরে শিশুর লাশবাহী নৌকায় ডাকাতি। মোবাইল, নগদ টাকা ও সোলার ব্যাটারি লুট। পুলিশ তদন্তের কথা জানিয়েছে।
কিশোরগঞ্জ হাওরে লাশবাহী নৌকায় ডাকাতি, আতঙ্কে যাত্রীরা
শিশুর মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে দুঃস্বপ্ন
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে একটি শিশুর মরদেহ বহনকারী নৌকায় ডাকাতির ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ১৫ দিন বয়সী এক কন্যাশিশুর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এমন শোকাবহ মুহূর্তেও ডাকাতদের হামলা ও লুটপাটের শিকার হতে হয়েছে তাদের।
মঙ্গলবার (রাত) উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও সুইজগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা নৌকায় থাকা যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং নৌকার সোলার প্যানেলের ব্যাটারি লুট করে নিয়ে যায়।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুর মৃত্যু
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চমকপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়ার ১৫ দিন বয়সী কন্যাশিশু জন্মের পর থেকেই অসুস্থ ছিল। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।
মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটির মৃত্যু হলে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে নিজ গ্রামে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
হাওরের মাঝপথে ডাকাতদের হামলা
শিশুটির দাদা আবদুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, করিমগঞ্জের বালিখলা ঘাট থেকে নৌকা ছাড়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর একটি ছোট নৌকায় করে ৬ সদস্যের একটি ডাকাত দল তাদের পথরোধ করে।
পরিবারের সদস্যরা ডাকাতদের কাছে অনুরোধ করে জানান, নৌকায় একটি শিশুর মরদেহ রয়েছে এবং তারা শোকাহত অবস্থায় বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু ডাকাতরা সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে যাত্রীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে লুটপাট চালায়।
মারধরের আশঙ্কায় যাত্রীরা তাদের কাছে থাকা তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা ডাকাতদের দিয়ে দিতে বাধ্য হন।
নৌকার ব্যাটারিও নিয়ে যায় ডাকাতরা
নৌকার মাঝি রতন মিয়া জানান, নোয়াগাঁও সুইজগেট এলাকায় পৌঁছানোর পর ডাকাতরা নৌকায় উঠে প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং নৌকার সোলার প্যানেলের ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং প্রতিরোধ করার সুযোগ পাননি।
স্থানীয়দের মতে, হাওরাঞ্চলের কিছু নির্জন জলপথে মাঝেমধ্যেই ডাকাতির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে নৌযান চলাচলকারী যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
পুলিশের বক্তব্য
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
অভিযোগ পেলে এবং নৌ পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
অন্যদিকে, চামড়াঘাট নৌ পুলিশের ইনচার্জ মো. ইস্কান্দার বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন।
তবে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না পাওয়ায় এখনো তদন্ত শুরু করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাওরাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা হাওরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিয়মিত নৌ পুলিশের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, রাতের বেলায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এমন ডাকাতির ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে।
বিশেষ করে রোগী, নারী, শিশু এবং মরদেহ বহনকারী নৌযানগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি দ্রুত তদন্ত, নিয়মিত টহল
এবং ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে নজরদারি বাড়ানো গেলে হাওরাঞ্চলে নৌ-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
