দিনাজপুরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় এনসিপির দুই নেতাসহ পাঁচজন গ্রেপ্তার। পুলিশ বলছে, মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে তারা আটক হন।
মুক্তিপণ নিতে এসে আটক এনসিপির দুই নেতা, গ্রেপ্তার ৫
অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পুলিশের অভিযান
দিনাজপুরে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–সংশ্লিষ্ট দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, অপহৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের অর্থ সংগ্রহ করতে এসে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের মুক্ত করার চেষ্টা, থানায় তদবির এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে পাঁচজনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরন্নবী।
যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, পুলিশের দাবি অনুযায়ী এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য হাসীন ইসরাক মিম, মিনাজ, প্রেম এবং হৃদয় ইসলাম।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির। তিনি দাবি করেন, হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। তার ভাষ্য, কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হওয়া উচিত।
কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে রবিবার রাতে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর তার পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরে আলোচনার একপর্যায়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে আব্দুস সামাদকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী তার ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চালিয়ে অপহৃতকে উদ্ধার
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে অপহৃত আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় ঘটনাস্থল থেকেই আরিফ মুন ও হাসীন ইসরাক মিমকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং প্রাথমিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সব দিক যাচাই করা হবে।
থানায় উত্তেজনা, আরও তিনজন গ্রেপ্তার
দুইজনকে থানায় নেওয়ার পর এনসিপি ও জাতীয় যুব শক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে উপস্থিত হন।
পুলিশের অভিযোগ, তারা আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তাদেরও একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে বিএনপি নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়।
মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
ঘটনার পর সোমবার রাতে অপহৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওসি নুরন্নবীবলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করাহচ্ছে,
ঘটনাটির পেছনে অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্য তদন্তাধীন বিষয়। আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত নন।
