G. Islam
আট মাস পেরিয়ে গেছে ইউনূস সরকারের অনৈতিক ক্ষমতা দখলের পর। এই সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক ধস ও আইনের শাসনের অনুপস্থিতি এক ভয়াল রূপ নিচ্ছে। নির্বাচিত সরকার ছাড়া একটি দেশের কী পরিণতি হতে পারে, বাংলাদেশ এখন তার এক জীবন্ত উদাহরণ।
অর্থনীতির চরম বিপর্যয়
শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে যেখানে গড় জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৬% এবং শেষ বছর তা ৭.২%-এ পৌঁছেছিল, সেখানে ইউনূস সরকারের আমলে জিডিপি নেমে এসেছে ৩.৩%-এ। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলো বাংলাদেশকে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থাগুলো দেশের অবস্থান কমিয়ে দিয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগ ৭১% হ্রাস পেয়েছে এবং দেশীয় বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তাহীনতায় বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের চেষ্টা করছে।
শত শত কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে হাজার হাজার শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন। দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৬৬ লাখে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, আরও ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়বে।
অবনতির মূল কারণ প্রতিশোধের রাজনীতি ও প্রতিষ্ঠান ধ্বংস
ইউনূস সরকার ক্ষমতায় এসেই শুরু করেছে “প্রতিশোধ ও ঘৃণার রাজনীতি”। নেলসন ম্যান্ডেলার আদর্শ অনুসরণ করার পরিবর্তে, তিনি নিজের রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে বাস্তবায়নে লেগে পড়েছেন। প্রায় ৩ লক্ষ রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকের বিরুদ্ধে দায়ের করেছেন ২৮ হাজার ভুয়া মামলা। এসব মামলার বিচার হচ্ছে একটি প্রহসনের বিচারব্যবস্থায়, যেখানে বিচারপতিদের স্বাধীনতা নেই। বরং যোগ্য বিচারপতিদের অপসারণ করে বসানো হয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত অনুগতদের।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, যা ছিল দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি, সেটিকেও ভেঙে ফেলা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করার ফলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (ADP) বাস্তবায়ন মাত্র ১৮%। এতে করে ত্রৈমাসিক জিডিপি বৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ১.৮%-এ, যা এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।
দেশ এখন কোন পথে?
দেশের অর্থনীতি এখন গভীর সংকটে পতিত। কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী কেউই এই সরকারের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও কোনো উন্নতি হয়নি, বরং অরাজকতা ও অনিরাপত্তা এখন জাতীয় বাস্তবতা।
জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন একটি অনির্বাচিত সরকার আজ শুধু দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়নি, ধ্বংস করে দিয়েছে বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন এবং গণতন্ত্রের সব স্তম্ভ। একটি জাতি যেখানে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছিল, সেখানে এখন পিছিয়ে যাচ্ছে বহু বছর।
এখনই প্রতিরোধ নয়তো বিলুপ্তির পথে বাংলাদেশ
যদি এই অগণতান্ত্রিক, প্রতিহিংসাপরায়ণ ও অদক্ষ সরকারকে এখনই প্রতিহত না করা হয়, তাহলে জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। অর্থনীতির এই ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠতে আমাদের সময় লাগবে এক যুগ, যদি আর দেরি না করি।
দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, সচেতন নাগরিক সমাজ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মিলিতভাবে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ এ শুধু একটি সরকারের ব্যর্থতা নয় এটা পুরো জাতির জন্য এক ভয়ঙ্কর অস্তিত্ব সংকট।
