জুলাই অভ্যুত্থানের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে জবাবদিহিতা, স্থিতিশীলতা বা অর্থনৈতিক উন্নয়ন দৃশ্যমান নয়। বরং মব সন্ত্রাস, লুটপাট ও খুন বেড়েছে।
📰 মূল প্রতিবেদন:
জুলাই অভ্যুত্থানের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও দেশে জবাবদিহিতা, স্থিতিশীলতা বা অর্থনৈতিক উন্নয়ন দৃশ্যমান নয়। ‘একটা তুড়ি বাজাতে যতটুকু সময় লাগে, ঠিক তত দ্রুত সময়টা চলে গেল।’—এই বেদনাভরা বক্তব্য দিয়েই জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছরের মূল্যায়ন শুরু হয় একটি জাতীয় টেলিভিশনের সাম্প্রতিক টকশোতে। আলোচনায় ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক নুরুল কবির।
তিনি বলেন, “মানুষ ভোট চেয়েছিল, জবাবদিহি চেয়েছিল, অথচ পেয়েছে মব সন্ত্রাস, অর্থ লুটপাট, ধর্ষণ আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।”
খুন, ধর্ষণ ও মব সন্ত্রাসে উত্তাল বছর
গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ হঠাৎ গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনি, বিরোধীদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, ছাত্রদের ওপর পুলিশের অতর্কিত হামলা, সাংবাদিকদের নিপীড়ন এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মতো ঘটনায় দেশজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করে।
অর্থনীতি ও দুর্নীতি
ইউনুস সরকারের এক বছরে ব্যাংক খাতে পুনরায় অনিয়ম ও সিন্ডিকেট কেলেঙ্কারি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বিনিয়োগ কমেছে, কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেছে, আর পণ্যের দাম বেড়েছে লাগামহীনভাবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “যারা সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় এলো, তারাই দুর্নীতির নতুন সংস্কৃতি তৈরি করল।”
রাজনীতিতে ‘নির্বাচন সংস্কার’ ঠেকে গেল সংলাপেই
যে সরকারের প্রধান দাবি ছিল নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার, এক বছরেও তারা কোটা সংস্কার নিয়ে কোনো কৌশলগত নীতিমালা ঘোষণা করতে পারেনি।
শুধু সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের ইঙ্গিত এবং সংসদীয় কমিটিতে বিরোধীদের ভূমিকার কিছু সীমিত সুযোগ ছাড়া রাজনৈতিক সংস্কার প্রায় স্থবির।
মানুষের জীবনে পরিবর্তন নেই
গ্রামীণ জনপদ, শ্রমজীবী মানুষ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন নেই। বরং ভাত, চিকিৎসা, বাসস্থান, নিরাপত্তা—সবকিছুতেই অনিশ্চয়তা ও দুঃশাসনের ছাপ স্পষ্ট।
আলোচকদের মূল্যায়ন
বিশিষ্ট বিশ্লেষকেরা মনে করেন,
“এই অভ্যুত্থান বড় কোনো জাগরণ এনে দিতে পারেনি। বরং অস্থিরতা, বিভ্রান্তি আর অন্ধকার রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।”
প্রস্তাবিত চিত্র:
এক বছর পর প্রশ্ন থেকেই যায়—কী পেল বাংলাদেশ? ভোট পায়নি, ভাত পায়নি। লুট, খুন আর বিভ্রান্তি ছাড়া প্রাপ্তির খাতা শূন্য।
“জুলাই অভ্যুত্থান কি আসলে রাজনৈতিক প্রতারণার এক করুণ পরিণতি?”—এমন প্রশ্ন এখন শুধু বিরোধী দল নয়, সাধারণ মানুষও ভাবছে।
