যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকশ শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল হয়েছে। অধিকাংশ ভারতীয় হলেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ওয়াশিংটন, ১৯ এপ্রিল ২০২৫: যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনারত বা নতুন করে ভিসা পাওয়া কয়েকশ শিক্ষার্থীর ভিসা (F-1 Visa) বাতিল করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। সূত্র অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ভিসাগুলোর অধিকাংশ ভারতীয় শিক্ষার্থীদের হলেও, কিছু বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর নামও এই তালিকায় রয়েছে।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এসব শিক্ষার্থী নকল বা অবৈধ ডকুমেন্টের মাধ্যমে ভিসা পেয়েছিলেন; অথবা যুক্তরাষ্ট্রে এসে তারা ‘নন-অ্যাকাডেমিক’ উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে ‘ভিসা স্টেটাস ভঙ্গ’, ‘ফেক ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘আনঅথোরাইজড এমপ্লয়মেন্ট’-এর অভিযোগ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল নিয়ে একজন অভিবাসন আইনজীবী জানান, “অনেকেই ভিসা পাওয়ার পর নিয়ম না মেনে কাজ শুরু করেন বা অনুপযুক্ত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হন। এটা ভিসা শর্তের লঙ্ঘন।”
এই ভিসা বাতিলের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ভারতীয় শিক্ষার্থীরা। নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৭০% ভিসা বাতিলের ঘটনা ভারতীয়দের ক্ষেত্রে হয়েছে। অনেকেই ইতিমধ্যেই দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আবার অনেকের বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৫-২০ জনের যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হয়েছে বলে অভিবাসন সংক্রান্ত সংগঠনগুলো জানিয়েছে। এদের অনেকে পড়াশোনা শুরু করার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ইমিগ্রেশনে আটকে পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন,
যেকোনো ধরনের ফর্ম, ডকুমেন্ট বা ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে তবেই আবেদন করা উচিত। কেউ যদি জাল কাগজ বা ফেক ইনস্টিটিউশনের মাধ্যমে আবেদন করেন, তাহলে কেবল ভিসা বাতিলই নয়; ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
এদিকে, ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসও সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, “শুধু অনুমোদিত ও স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েই ভিসার আবেদন করা উচিত। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ভিসা বাতিল হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনেকের। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সতর্ক থাকা জরুরি। জালিয়াতির পথ বেছে না নিয়ে, স্বচ্ছ ও আইনানুগ পথে আবেদন করলেই সেই স্বপ্ন সফল হতে পারে।
