যমুনা টিভি, বঙ্গভবন ও আইভির বাসা ঘেরাওয়ের আড়ালে কী চলছিল? গোপনে বিমানবন্দরে ইউএন ট্রাকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বিশ্লেষণ করছে আমাদের প্রতিবেদক।
প্রকাশের তারিখ: ৯ মে ২০২৫;
রাজধানীজুড়ে একের পর এক ঘেরাও কর্মসূচি—যমুনা টিভি ভবন, বঙ্গভবন এবং নারায়ণগঞ্জে সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভির বাসা। ঘটনাগুলোর বাহ্যিক রূপ ছিল ‘গণ-আন্দোলন’, কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে এ দৃশ্যপটের অন্তরালে চলেছে এক ভিন্নধর্মী রাষ্ট্রীয় কৌশল।
সূত্র জানায়, একই সময়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে একটি অজ্ঞাতনামা অস্ত্রবাহী কার্গো বিমান। এই অস্ত্রসম্ভার ইউএন চিহ্নযুক্ত ট্রাকে করে পাঠানো হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামে—এই অঞ্চল বহুদিন ধরেই সামরিক ও গোয়েন্দা তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব বিক্ষোভ পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে জনদৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য। বিশেষ করে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘিরে বিক্ষোভ তৈরি করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নজরকে ভিন্নদিকে সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারা জড়িত?
অনুসন্ধান অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পরিচিত ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তবে তাদের আচরণ ছিল ‘আদেশপ্রাপ্ত মিলিশিয়া’র মতো, যার মধ্যে ছিল সমন্বিত পদক্ষেপ ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ। এ থেকে অনেকেই সন্দেহ করছেন, প্রশাসনের একটি অংশ হয়তো এসব ঘটনা ‘ব্যাকচ্যানেল’ থেকে পরিচালনা করছে।
কেন পার্বত্য চট্টগ্রাম?
পার্বত্য চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই নানা জাতিগত ও ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় স্পর্শকাতর। সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এবার সেখানে ইউএন ট্রাকে করে অস্ত্র পরিবহন নতুন করে সন্দেহ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সরকার কী বলছে?
সরকারি কোনো পর্যায় থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু কার্যক্রম চলছে, তবে তা গোপনীয়।”
যখনই জাতীয় রাজনীতিতে কোনো বড় ঘটনা ঘটে, তখনই কিছু দৃশ্যমান ‘শো-ডাউন’ সামনে আনা হয়। কিন্তু এবার জনদৃষ্টি সরাতে যেভাবে একযোগে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ‘ঘেরাও’ সৃষ্টি করা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
পাঠকরা এখন অপেক্ষায়, এই অস্ত্র কার্গো ও পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে পরবর্তী ধাপ কী?
