বাংলাদেশের বেসরকারি বিনিয়োগ নেমেছে ২২.৪৮%-এ, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। নেতৃত্বে আস্থার অভাব, গ্যাস ও ডলার সংকট, আমদানি-রপ্তানিতে স্থবিরতা—সবকিছু ঘনীভূত হয়েছে এক অদৃশ্য রাজনৈতিক শাসনের কারণে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ কোনো অপ্রত্যাশিত সংকটে নয়—এটি একটি চিহ্নিত, কাঠামোগত এবং রাজনৈতিকভাবে জন্ম দেওয়া অচলাবস্থা।
২০২৫ সালে যেখানে জিডিপির ২৮% বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, সেখানে বর্তমান হার ২২.৪৮%—গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই পতন শুধু সংখ্যার নয়, এটি জাতীয় আত্মবিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক আস্থারও ভেঙে পড়া।
বিনিয়োগ নেই, কারণ নেতৃত্বে আস্থা নেই
ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী—সবাই এক কণ্ঠে বলছে, "বাংলাদেশে এখন সিদ্ধান্তহীনতা, অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ।"
- গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ ঘনঘন যাচ্ছে
- ব্যাংকে টাকা নেই, অথচ সুদ বেড়েই চলেছে
- ডলার সংকটে এলসি বন্ধ, আমদানি-রপ্তানি অচল
- আর সরকারের তরফে নেই কোনো স্পষ্ট পথনির্দেশনা
রাজনৈতিক নেতৃত্বই আস্থাহীনতার কেন্দ্র
এই অচলাবস্থার নাম আজ মোহাম্মদ ইউনূস—যিনি নির্বাচিত নন, স্বীকৃত নন, তবু শাসক।
তাঁর কথায় চলে প্রশাসন, তার অনুমোদনে বাণিজ্য, অথচ কোনো দায়ভার বা জবাবদিহিতা নেই।
তিনি যাকে বলেন “উন্নয়ন”, সেটি বাস্তবে হয়ে দাঁড়িয়েছে নিয়ন্ত্রণ আর ভয়ভীতির অর্থনীতি।
এটি এমন এক শাসনযন্ত্র, যেখানে বাজার নয়, বরং শীর্ষস্তরের অনুমতির উপর নির্ভর করে টাকা চলাচল।
বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত, বাজার নিঃশব্দ
দেশীয় বিনিয়োগকারীরা নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছেন না।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা “পলিসি রিস্ক” ও “পলিটিক্যাল আনসার্টেনটি”-র কথা বলে পিছিয়ে যাচ্ছেন।
শেয়ারবাজার স্থবির, ব্যাংক ঋণ সংকুচিত, আর সাধারণ জনগণের হাতে নেই খরচ করার মত অর্থ।
বিশ্লেষকরা বলছেন—
“এই ধস শুধু অর্থনীতির না, এটি আত্মবিশ্বাসের ধস।
নেতৃত্বে বিশ্বাস নেই বলেই কেউ ঝুঁকি নিতে চাইছে না।”
অর্থনীতি নয়, শাসনের ব্যর্থতা
বাংলাদেশে বর্তমান অর্থনৈতিক পতন মূলত রাজনৈতিক দখলদারিত্বের ফল।
যেখানে নির্বাচন মানে প্রহসন, ব্যবসা মানে কমিশন, আর বাজেট মানে লুটপাট—সেখানে উন্নয়ন কেবল কথার ফানুস।
এই অবস্থায় জনগণের সামনে প্রশ্ন জেগেছে—
“এক ব্যক্তির অগণতান্ত্রিক ক্ষমতালিপ্সা কি গোটা জাতির ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিচ্ছে না?”
বাংলাদেশে বিনিয়োগ-সঙ্কট এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি রাজনৈতিক সংকটের প্রতিফলন।
একটি অদৃশ্য শাসনের অধীনে দেশ চলছে ‘শব্দহীন আতঙ্কে’, যেখানে বাজার আছে কিন্তু গতি নেই, ব্যবসায়ী আছে কিন্তু ভরসা নেই।
যতদিন না নেতৃত্বের বৈধতা, নীতির স্বচ্ছতা এবং শাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হচ্ছে—ততদিন পর্যন্ত বিনিয়োগ শুধু পরিসংখ্যানে থাকবে, বাস্তবে নয়।
