ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহর বাইপাস সড়কের বিরাসারে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক উল্টে প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তবে সৌভাগ্যক্রমে কেউ হতাহত হয়নি। দুর্ঘটনার পেছনে নাজুক সড়কব্যবস্থার দায় স্পষ্টভাবে উঠে আসছে।

বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত অব্যবস্থাপনার দীর্ঘদিনের সংকট এবার ফের একবার ভয়ঙ্কর রূপে ধরা দিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। শহর বাইপাস সড়কের বিরাসার গ্যাস ফিল্ড এলাকায় বুধবার ভোররাতে গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে গিয়ে প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে এবং পরে ঘটেছে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। প্রায় ২০০টি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের একের পর এক বিস্ফোরণে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক, ছড়ায় বিশৃঙ্খলা ও ব্যাপক যানজট।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সড়কের খানাখন্দই ছিল এ দুর্ঘটনার মূল কারণ। রাস্তার করুণ অবস্থার জন্য ট্রাকটির ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যাওয়া ও প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার মেরামতের কোনো উদ্যোগ না থাকায় দুর্ঘটনা এখন এখানে নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ধরনের বড় বিস্ফোরণ ও আগুনের ঘটনায় সাধারণত প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যায়। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি – যা নিঃসন্দেহে এক অলৌকিক রক্ষা। কিন্তু যে পরিমাণ সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল, তা সহজেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারতো। এই দুর্ঘটনা যেন এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের অতি সামান্য ব্যবধানেই থেমে গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সেই সঙ্গে পুলিশ এবং স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন।
দ্রুততার সঙ্গে ৯৯৯ এ ফোন করে তথ্য দেয়ায়, এই বিপর্যয় আরও বড় কিছুতে পরিণত হয়নি—এই অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসাযোগ্য।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ দুর্ঘটনা আবারও তুলে ধরেছে দেশের সড়ক নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার বাস্তবচিত্র। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে এখনই জরুরি ভিত্তিতে বাইপাস সড়কসহ ঝুঁকিপূর্ণ মহাসড়কগুলো সংস্কারের পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা সামনের দিনগুলোতে প্রাণহানির ভয়াবহ শঙ্কা থেকেই যাবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ একটি দুর্ঘটনা হলেও এর গভীরতর বাস্তবতা হলো—আমাদের দেশের সড়ক অব্যবস্থাপনা ও অপ্রস্তুত নগর ব্যবস্থাপনার পরিণতিচিত্র এটি। ভাগ্যের জোরে আজ প্রাণহানি হয়নি, কিন্তু ভবিষ্যতে এমন ভাগ্য বারবার সঙ্গী নাও হতে পারে। প্রয়োজন এখনই কার্যকর পদক্ষেপ।
