দক্ষিণ কোরিয়ার Asia‑Pacific Economic Cooperation Summit (এপেক) সেশনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে “একজন খুনি” ও “নরকের মতো কঠিন” আখ্যায়িত করেন; ভারতের প্রতিক্রিয়া তীব্র।
দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সম্মেলনের এক সেশনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে “একজন খুনি” এবং “নরকের মতো কঠিন” (tough as hell) আখ্যা দেন।
বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে ট্রাম্পের এই বক্তব্য রীতিমতো কূটনৈতিক অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।
“মোদী একজন খুনি”— ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট
ট্রাম্প তার ভাষণে বলেন, মে মাসে ভারতের সীমান্ত উত্তেজনার সময় তিনি মোদীর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি একটি উপহাসমূলক বর্ণনায় বলেন, “মোদী বাইরের দিকে দেখলে শান্ত, কিন্তু ভিতর থেকে একজন ‘কিলার’।” Afghan Voice Agency+2The Times of India+2
তিনি আরও বলেন, “হ্যাঁ, আমরা লড়ব বললাম—আমি দেখলাম, এটা কি আগে-আমি-চিনি-তাল মহিলাই?” (“I said, ‘Is this the same guy I used to know?’”) The Times of India+1
ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া
এই মন্তব্যের পর ভারতের রাজনৈতিক মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বিরোধী দলগুলো ট্রাম্পের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছেন—
“এই মন্তব্য মোদীর বাস্তব মুখ উন্মোচন করেছে, যা তিনি আন্তর্জাতিকভাবে ঢেকে রাখতে চেয়েছিলেন।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে—
কেন একজন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমনভাবে একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে আক্রমণ করবেন?
মোদীর কর্মকাণ্ড ও ভারতের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক ঝড় তোলে। ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহলে ওই মন্তব্যকে গভীর অসম্মান ও আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন মন্তব্য কেবল দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াবে না, বরং ভবিষ্যতে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বড় ধরণের সমস্যা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে এমন মুহূর্তে যখন ভারত একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন ট্রাম্পের মন্তব্য সময়োপযোগীভাবে আরও বেশি আলোচনায় আসে। ট্রাম্পের সঙ্গে মোদীর পূর্ববর্তী মত-বিরোধ ও আলোচনায় সীমান্ত বিষয়ক উত্তেজনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প এমন কথা বলছেন বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা। hrnww.com+1
কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মন্তব্য ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে নতুন জটিলতার মুখে ফেলতে পারে।
কারণ, মোদী ও ট্রাম্পের সম্পর্ক অতীতে ঘনিষ্ঠ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা শীতল হয়ে এসেছে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ এশিয়া নীতিতে ভারতের ভূমিকাও পরিবর্তিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্যকে “নতুন কৌশলগত বার্তা” হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক বলেন,
“ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে শুধু মজার ছলে কিছু বলেননি; এটি ভূ-রাজনৈতিকভাবে ভারতের ‘অতি আক্রমণাত্মক নীতি’র প্রতিও ইঙ্গিত।”
ট্রাম্প-মোদীর পুরনো সম্পর্ক ও দ্বন্দ্ব
২০১৯ সালে ট্রাম্প ও মোদীর মধ্যে বেশ ভালো সম্পর্ক দেখা গিয়েছিল।
‘Howdy Modi’ অনুষ্ঠানে তাঁরা একসঙ্গে জনসভায় উপস্থিত হয়ে দুই দেশের বন্ধুত্বের কথা বলেছিলেন।
তবে সীমান্ত নীতি, বাণিজ্য শুল্ক ও চীনা প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগত মতভেদ দুই নেতার সম্পর্কে ফাটল ধরায়।
২০২০ সালের পর থেকে ট্রাম্প বারবার মোদীর নেতৃত্ব ও ‘হিন্দুত্ববাদী’ নীতিকে “অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক” বলে সমালোচনা করেন।
বিশ্বমঞ্চে প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
দক্ষিণ কোরিয়া ও অন্যান্য এশীয় দেশের সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের মন্তব্যকে “অশোভন” ও “অযৌক্তিক” বলে অভিহিত করেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকা লিখেছে—
“একজন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।”
তবে ট্রাম্পের সমর্থকরা বলছেন,
তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছেন যে মোদী একজন কঠোর ও দৃঢ়চেতা নেতা, যা আধুনিক রাজনীতিতে প্রয়োজনীয়।
রাজনৈতিক হাস্যরস না কৌশলগত আক্রমণ?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য একদিকে হাস্যরসাত্মক মনে হলেও, অন্যদিকে এটি হতে পারে এক ধরনের “নরম কূটনৈতিক আঘাত” (soft diplomatic jab)।
এটি ভারতের বর্তমান বৈদেশিক নীতির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগেরও প্রতিফলন হতে পারে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতি বিশ্লেষক রিচার্ড হ্যামন্ড বলেন—
“ট্রাম্প জানতেন তাঁর প্রতিটি শব্দ বিশ্বমিডিয়ায় প্রতিধ্বনিত হবে। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই মোদীকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যাতে ভারত তার ‘আক্রমণাত্মক’ ভাবমূর্তির বিষয়ে আত্মসমালোচনায় যায়।”
শেষকথা;
দক্ষিণ কোরিয়ার মঞ্চে ট্রাম্পের এই এক বক্তব্যেই আবারও আলোচনায় এসেছে মোদী-ট্রাম্প সম্পর্ক ও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক বাস্তবতা।
এখন বিশ্ব অপেক্ষা করছে—
ভারত সরকার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় এবং এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি কত দূর পর্যন্ত যায়।
