মোদি-পুতিনের ঘনিষ্ঠতার ছবি দেখিয়ে ট্রাম্পের বিদেশ নীতির সমালোচনা করলেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট নেত্রী সিডনি ডাভ। প্রশ্ন উঠল ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। তবে সেই বন্ধুত্বের একটি প্রতীকী ছবি দেখিয়ে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশ নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানালেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্য সিডনি কমলাগের ডাভ।
মার্কিন আইনসভায় এক আলোচনাকালে মোদি ও পুতিনের গাড়ির ভেতরে তোলা একটি সেলফি প্রদর্শন করে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের কঠোর ও একতরফা নীতির কারণেই ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে দূরে সরে রাশিয়ার আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।
কংগ্রেসে কী বললেন ডেমোক্র্যাট নেত্রী?
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিদেশ নীতি নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিডনি ডাভ বলেন,
“এই একটি ছবি অনেক কিছু বলে দেয়। কৌশলগত বন্ধুদের শত্রুদের দিকে ঠেলে দিয়ে আপনারা নোবেল পুরস্কার পাবেন না।”
তার এই মন্তব্য দ্রুতই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। ডাভের মতে, ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্রকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ঠেলে দিচ্ছে এমন এক অবস্থানে, যেখানে তারা বিকল্প শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে বাধ্য হচ্ছে।
ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়েন
সিডনি ডাভের বক্তব্যে উঠে আসে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতির একাধিক কারণ। এর মধ্যে রয়েছে—
- রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর দুই ধাপে মোট ৫০ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক
- ভারতীয় নাগরিকদের জন্য H-1B ভিসা নীতিতে কঠোরতা
- প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য সহযোগিতায় অনিশ্চয়তা
এই সিদ্ধান্তগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের ভারতবিরোধী ও কূটনৈতিকভাবে আত্মঘাতী পদক্ষেপ বলে আখ্যা দেন ডেমোক্র্যাট নেত্রী।
ভারত–রাশিয়া সম্পর্ক: ট্রাম্প নীতির প্রভাব?
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ঐতিহাসিকভাবেই রাশিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিও একটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে।
সিডনি ডাভ দাবি করেন,
“যখন যুক্তরাষ্ট্র তার বন্ধুদের উপর চাপ সৃষ্টি করে, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প কৌশলগত অংশীদার খোঁজে।”
তার মতে, এই বাস্তবতা উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আরও গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হারাতে পারে।
নোবেল প্রসঙ্গ ও রাজনৈতিক বার্তা
ডাভের বক্তব্যে “নোবেল পুরস্কার” প্রসঙ্গটি ছিল মূলত রাজনৈতিক ব্যঙ্গ। আন্তর্জাতিক শান্তি ও কূটনৈতিক সাফল্যের জন্য নোবেল পাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, বাস্তবে ট্রাম্পের নীতি তার উল্টো ফল দিচ্ছে—এমনটাই ইঙ্গিত দেন তিনি।
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
এ বিষয়ে এখনো হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে,
এই বক্তব্য ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বাড়তে থাকা উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে বিশ্লেষণী আকারে, বিশেষ করে ভারত–রাশিয়া–যুক্তরাষ্ট্র ত্রিমুখী কূটনীতির প্রেক্ষাপটে।
উপসংহার
মোদি–পুতিনের একটি ছবি ঘিরে মার্কিন কংগ্রেসে ওঠা এই বিতর্ক প্রমাণ করে, বিশ্ব রাজনীতিতে প্রতীকী বার্তাও কতটা শক্তিশালী হতে পারে।
একই সঙ্গে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের বিদেশ নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই যে গভীর মতভেদ রয়েছে, তারও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।
আগামী দিনে এই বিতর্ক ভারত–যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
