হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহাদী হাসানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে ছাত্রদল ও পুলিশ এ অভিযোগের সত্যতা নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে।
ডিসি অফিসে হামলার অভিযোগ: আবারও আলোচনায় মাহাদী হাসান
হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান-কে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয় প্রাঙ্গণে তার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।
মাহাদী হাসানের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে অতর্কিত হামলার শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়, ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাকে মারধর করেন। ঘটনার পর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও দাবি করা হয়েছে যে, মাহাদী হাসানের ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। ভিডিওতে উপস্থিত কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, সরকারি অফিসের ভেতরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
আগের দিনের ধাওয়ার অভিযোগ
এর আগের দিনও মাহাদী হাসান অভিযোগ করেছিলেন যে একটি রাজনৈতিক ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে তাকে ধাওয়া করা হয়। তার দাবি, বুধবার দুপুরে শহরের বৃন্দাবন সরকারি কলেজ এলাকার সামনে ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে লক্ষ্য করে তাড়া করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তিনি হবিগঞ্জ সদর থানা-এ আশ্রয় নেন।
পরে ফেসবুক লাইভে এসে মাহাদী বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা দিতে তিনি বিআরটিএ কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে ইজিবাইকে থাকা অবস্থায় তাকে ধাওয়া করা হয়। লাইভ ভিডিওতে তার সঙ্গে আরও একজনকে দেখা যায়। পরবর্তীতে তারা থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।
ছাত্রদলের পাল্টা বক্তব্য
তবে মাহাদীর অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে ছাত্রদল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এমন কোনো হামলা বা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মাহাদী হাসান নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ প্রচার করছেন।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল নেই
এবং বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুলিশের অবস্থান
মাহাদীর আগের দিনের ধাওয়ার অভিযোগ নিয়ে পুলিশও সংশয় প্রকাশ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়,
তদন্তে তারা ওই ঘটনার কোনো সুস্পষ্ট সত্যতা খুঁজে পায়নি। ফলে অভিযোগ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
তবে সর্বশেষ ডিসি অফিসে হামলার অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।
এ কারণে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষা করতে হবে।
পুরোনো ভিডিও ঘিরেও বিতর্ক
মাহাদী হাসান এর আগেও একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছিলেন।
চলতি বছরের ২ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানা-এ গিয়ে তিনি এক ওসির সঙ্গে কথা বলার সময় বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাকে নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
রাজনৈতিক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
মাহাদীর দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি রাজনৈতিক স্ট্যাটাস থেকেই পুরো ঘটনার সূত্রপাত।
ওই স্ট্যাটাসে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-কে নিয়ে সমালোচনা করেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
এ বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করে বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমানে হামলার অভিযোগ, ছাত্রদলের অস্বীকৃতি এবং পুলিশের বক্তব্য—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
