“আজ ১৮ই অক্টোবর শেখ রাসেলের শুভ জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া শিশু রাসেলের শৈশব, স্মৃতি ও বাবার সাথে আবেগঘন মুহূর্ত নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।”,
বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের শুভ জন্মদিন।
আজ ১৮ই অক্টোবর, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের শুভ জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিল পরিবারের সবচেয়ে ছোট এই সদস্যটি। ভাইবোনদের হাসিমুখের আলো আর পরিবারের সবার চোখের মণি হয়ে বেড়ে ওঠা শিশু রাসেলের সামনে ছিল অফুরন্ত সম্ভাবনা। কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেট সেই আলো নিভিয়ে দেয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এক কালরাতে।
আনন্দময় শৈশব ও রঙিন দিনগুলো
ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িটি সবসময় মুখরিত থাকত ছোট্ট রাসেলের পদচারণায়। ভাইবোনদের মাঝে সবচেয়ে ছোট হওয়ায় সবার কাছেই সে ছিল এক অন্যরকম ভালোবাসার উৎস। তার ডানপিটে স্বভাব আর মিষ্টি হাসিতে পুরো পরিবার মেতে থাকত। বারান্দায় ছোট পায়ে দৌড়ে বেড়ানো, খেলনা নিয়ে খেলা করা এবং চারপাশের বিশ্বকে কৌতূহলী চোখে দেখা ছিল তার নিত্যদিনের অভ্যাস। বাড়ির প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে ছিল তার অমল শৈশবের সোনালী স্মৃতি।
বাবার সাথে ছোট্ট রাসেলের স্পর্শকাতর মুহূর্ত
হাজার ব্যস্ততার মাঝেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর কনিষ্ঠ সন্তানের জন্য সবসময় সময় বের করতেন। রাসেলের ছোট্ট হাত ধরে ঘুরে বেড়ানো কিংবা কোলে বসিয়ে আদর করার অসংখ্য স্মৃতি আজও বাঙালির মনে দোলা দেয়। রাসেল বাবাকে ছাড়া থাকতে পারত না বললেই চলে। জেলখানার অন্ধকার প্রকোষ্ঠেও যখন বাবাকে দেখতে যাওয়ার সুযোগ হতো, তখন ছোট্ট রাসেলের আকুলতা এবং বাবার কোল থেকে নামতে না চাওয়ার সেই দৃশ্যগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও হৃদয়বিদারক ছিল। বাবা-ছেলের সেই পবিত্র বন্ধন আজও ইতিহাসে অমর হয়ে আছে।
পড়াশোনা ও সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ
বয়স কম হলেও শেখ রাসেলের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা ও পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখা যেত। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল সে। তার বইখাতা, স্কুলের পোষাক আর ক্লাসের বন্ধুদের সাথে কাটানো সময়গুলো ছিল বেশ আনন্দের। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা এবং ছোটখাটো খেলাধুলায় তার বেশ ঝোঁক ছিল। একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক শৈশব কাটিয়ে একজন যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সব স্বপ্নই তার ডানা মেলছিল।
পঁচাত্তরের কালরাত ও অমলিন স্মৃতি
সেদিনের সেই বিভীষিকাময় রাতে ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছিল।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সিঁড়িতে যখন একে একে শহীদ হচ্ছিলেন পরিবারের সদস্যরা, তখন অবুঝ দশ বছরের শিশু রাসেল ভয়ে কাঁপছিল।
মা ফজিলাতুন্নেছার সান্নিধ্য না পেয়ে সে আকুল আর্তনাদ করে বলে উঠেছিল, “আমি মায়ের কাছে যাব।”
বড়বোন শেখ হাসিনাকে, যাকে সে ভালোবেসে ‘হাসু আপা’ বলে ডাকত, পাশে না পেয়ে তার নিষ্পাপ কণ্ঠে ঝরে পড়েছিল হৃদয়বিদারক মিনতি।
কিন্তু খুনিদের পাষাণ হৃদয় একটুও গলেনি। সমস্ত আকুতি উপেক্ষা করে ছোট্ট রাসেলকে বুলেটের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।
আজকের এই বিশেষ দিনে শেখ রাসেলের স্মৃতি আমাদের মনে গভীর বেদনা জাগায়।
রাসেল আজ আমাদের মাঝে সশরীরে নেই, কিন্তু তার নিষ্পাপ মুখখানি চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।
প্রতিটি শিশুর নিরাপদ আশ্রয় ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে থাকবে শহীদ রাসেল।
আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার হোক এমন এক পৃথিবী গড়া, যেখানে কোনো শিশুই হিংস্রতার শিকার হবে না
এবং সবাই মুক্ত আকাশের নিচে নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারবে।
