ইউরোপে নিষিদ্ধ ও পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত আমেরিকার জিএমও গম কেন বাংলাদেশে আমদানি করা হলো? গ্লুফোসাইনেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও গোলামী চুক্তির স্বরূপ।
আমেরিকা থেকে আমদানি করা হলো লক্ষাধিক টন জিএমও গম। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এই গম আসার কথা সগৌরবে জানিয়েছে। কিন্তু এই খাদ্যপণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফ্রেন্ডস অব আর্থের প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। আমদানিকৃত এই গমে রয়েছে গ্লুফোসাইনেটের মতো ক্ষতিকর উপাদান। এটি মানুষের প্রজনন অঙ্গের মারাত্মক বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যা এবং জন্মগত ত্রুটির সাথে এর যোগ রয়েছে। এই কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ইউরোপের কোথাও জিএমও খাদ্য বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হয় না। মানুষের সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবসময় কঠোর সতর্ক থাকে।
ইউরোপে নিষিদ্ধ পণ্য কেন আমাদের থালায়?
ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএমও গম বা সয়াবিন কেবল পশুখাদ্য হিসেবে আসে। মানুষের খাওয়ার জন্য এটি সেখানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার হলেও তা কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে। ইউরোপিয়ান ফুড সেফটি অথরিটির অনুমোদন ছাড়া তা ঢোকে না। ২০১৫ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে এ বিষয়ে বিল পাস হয়। তাহলে প্রশ্ন জাগে কেন আমাদের জন্য এই গম আনা হলো? কোন ধরনের গোপন চুক্তির অধীনে এই বিষাক্ত খাদ্য আমদানি? চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর কি আমাদের পশু বানিয়ে দেওয়া হলো? সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে এই তামাশা কেন করা হচ্ছে? নাগরিকদের জীবন নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা মেনে নেওয়া যায় না।
গোলামী চুক্তি ও অসাধু বাণিজ্য সিন্ডিকেট
আমেরিকার সাথে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির নেপথ্য রহস্য আজ স্পষ্ট। স্বাধীন দেশের জনতাকে সস্তায় বা উচ্চমূল্যে বিষ খাওয়ানো হচ্ছে। প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা এ ক্ষেত্রে রহস্যজনক। বেশি দামে জিএমও খাদ্য কিনে দেশের মানুষের পেটে ঢোকানো হচ্ছে। এর অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত পরিণতি অত্যন্ত ভয়ংকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করলেও কর্ণপাত করা হচ্ছে না। বিদেশি প্রভুদের খুশি করতে জনগণের জীবন বিপন্ন করা হচ্ছে। এই ধরনের বাণিজ্য চুক্তি দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। জনগণ কি পশুখাদ্য খাওয়ার জন্য আন্দোলন করেছিল? চব্বিশের চেতনাকে পদদলিত করে এই অপচেষ্টা চলছে।
গ্লুফোসাইনেটের ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্যানসার আতঙ্ক
গ্লুফোসাইনেটের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক মানবদেহের জন্য মারাত্মক। দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের জন্ম দেয়।
শিশুরা এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অথচ মার্কিন দূতাবাসের প্রেস রিলিজে এসব লুকানো হয়েছে। সদর্প ঘোষণার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নিষ্ঠুর বাণিজ্যিক স্বার্থ। আমাদের দেশের মাটি ও মানুষের স্বাস্থ্য ধ্বংসের পায়তারা চলছে। স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কি বিদেশি খাদ্য আমদানির গোলামি? দেশবাসীর উচিত এই বিষাক্ত গমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।
খাদ্য নিরাপত্তার নামে আমদানিকৃত এই জঞ্জাল প্রত্যাখ্যান করতে হবে। সরকারকে অবিলম্বে এই জিএমও আমদানির চুক্তি বাতিল করতে হবে।

জনসচেতনতার তীব্র আহ্বান
ইউরোপ যা বর্জন করেছে তা আমাদের থালায় তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র নিন্দা জানানো উচিত সকলের।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বিষ কিনে খাওয়ানোর এই চক্রান্ত বন্ধ করতে হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান শাসকরা বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত রয়েছে।
আগামী প্রজন্মের সুস্থ ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে হলে এই চক্র চূর্ণ করতে হবে। জিএমও গমের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জোরালো জনমত গড়ে তুলতে হবে। কোনো গোলামি চুক্তি বাংলার সচেতন মানুষ মেনে নেবে না। সময় এসেছে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর।
