রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী ও বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা আব্দুল হাফিজকে বনানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ।
মুক্তিবার্তা৭১ প্রতিবেদক ঢাকা
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী থেকে সাবেক এক সেনা কর্মকর্তাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া ঐতিহাসিক পিলখানা হত্যাযজ্ঞের নেপথ্য চক্রান্ত এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের সহায়তার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এই আকস্মিক আটকের পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার ঝড় উঠেছে।
গভীর রাতে বনানীতে ডিবির বিশেষ অভিযান
শনিবার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও সুরক্ষিত এলাকা বনানীতে এই অভিযান চালানো হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি চৌকস দল সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় ঘেরাও করে। দীর্ঘক্ষণ নজরদারিতে রাখার পর অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল হাফিজকে তাঁর নিজ অবস্থান থেকে হেফাজতে নেয় ডিবির দলটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর গোপনীয়তা ও সতর্কতার মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হয়। মধ্যরাতের এই আকস্মিক পদক্ষেপে এলাকায় সাময়িক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও নিরাপত্তারোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
গোয়েন্দা সূত্র থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জনশৃঙ্খলা পরিপন্থী বিভিন্ন গোপন কর্মকাণ্ডে তাঁর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা মিলেছে। এর পাশাপাশি ২০০৯ সালের মর্মান্তিক বিডিআর বিদ্রোহ বা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা গভীর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তাঁর যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তৎকালীন কুশীলব ও খুনিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ
বনানী থেকে আটকের পরপরই তাঁকে সরাসরি রাজধানীর মিন্টো রোডস্থ প্রধান গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে ডিবির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। অতীতে তাঁর কী ধরনের ভূমিকা ছিল এবং এই ষড়যন্ত্রের পেছনে দেশি-বিদেশি আর কাদের হাত রয়েছে, তা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
তদন্তের পরবর্তী ধাপ ও আইনি প্রক্রিয়া
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি ধারায় মামলা দায়ের করা হবে।
পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে রিমান্ডে এনে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হতে পারে।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলা হওয়ায় পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসন।
তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে গণমাধ্যমের সামনে অনেক তথ্য প্রকাশ করতে নারাজ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
জনমনে প্রতিক্রিয়া ও সামগ্রিক পরিস্থিতি
একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ ধরনের আইনি পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
তবে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
